kalerkantho


‘ভাগ হয়নি ক’ নজরুল’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৭ মে, ২০১৮ ১৬:৪১



‘ভাগ হয়নি ক’ নজরুল’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

জাত-ধর্ম কিংবা দেশের সীমানার ভিত্তিতে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে ভাগ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা। কবির অমর কবিতা ও সঙ্গীত আজও অখণ্ড বাংলার সম্প্রীতি ও মিলনের আহ্বান হয়ে আমাদের মাঝে ধরা দেয়। বাঙালির বহুকালের গৌরব ও অহংকারের যে গৌরবদীপ্ত ইতিহাস তা কাজী নজরুল ইসলাম-কে ছাড়া পূর্ণতা পায় না বলেও মনে করেন তারা। 

দ্রোহ-প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি নজরুলের ১১৯তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের আশুতোষ বার্থ সেন্টিনারি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সেমিনারে যোগ দিয়ে এ মূল্যায়ন তুলে ধরেন বক্তারা।

কলকাতার সাপ্তাহিক আলিপুর বার্তা ও ঢাকার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বহুমাত্রিক ডট কম’র  যৌথ আয়োজনে গতকাল শনিবার দুপুরে এই সেমিনারে যোগ দেন বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংষ্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যম সম্পাদক সহ নজরুল অনুরাগীরা।

‘‘ভাগ হয়নি ক’ নজরুল’’ শীর্ষক এই আন্তর্জাতিক সেমিনারের প্রধান অতিথি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘যে মানুষটি সমগ্র পৃথিবীর নিরন্ন মানুষের জন্য লড়াই করেন, তাকে জাতের ভিত্তিতে-ধর্মের ভিত্তিতে কিংবা দেশের সীমানার ভিত্তিতে ভাগ করা যায় না।’

‘তিনি সার্বজননীন, সমগ্র পৃথিবীর কবি। এপার বাংলা-ওপার বাংলার কবি নন, তিনি সমগ্র পৃথিবীর নিপীড়িত, নিষ্পেষিত মানুষের কবি’-যোগ করেন এই রাজনীতিক।

আলিপুর বার্তার সম্পাদক ডঃ জয়ন্ত চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই সেমিনারে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা ও তাঁর বিস্ময়কর সাহিত্য জীবনের নানা দিক তুলে ধরে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নজরুল গবেষকরা। উপস্থাপিত এসব প্রবন্ধে মানবতাবাদী এই কবির সংগ্রামী জীবনের প্রতিচ্ছবি যেমন চিত্রিত হয়, তেমনি জাত-ধর্মের উর্ধ্বে উঠে মানুষে মানুষে সম্প্র্রীতি ও মিলনের যে চিরকালীন আহ্বান কবি উদাত্ত কণ্ঠে তুলেছিলেন-তাও উঠে আসে। 

সেমিনারে গবেষণা নিবন্ধ পাঠ করেন-কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ও বিশিষ্ট অভিনেতা ড. শংকর ঘোষ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ডঃ হুমায়ূন কবীর ও  বহুমাত্রিক ‍ডট কম এর প্রধান সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম। 

নিখিলবঙ্গ কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রণব গুহু’র সঞ্চালন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যায়ের উপাচার্য অধ্যাপক বাসব চৌধূরী, রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃত সমাজসেবিকা ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর প্রপৌত্রী রাজ্যশ্রী চৌধুরী, ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের পরিচালক রাজেশ পুরোহিত, দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র’র সম্পাদক অয়ন আহমেদ, কলকাতার দৈনিক একদিন’র সিই্ও নিলাদ্রী ব্যানার্জী প্রমূখ।

রাজ্যশ্রী চৌধুরী বলেন, ‘নজরুলকে আমরা কেবল কবি হিসাবে নয়, একজন দার্শিনিক হিসাবেও পাই। তাঁর গভীর উপলব্ধি ছিল আধ্যাত্ম জগতেও। উনার যে প্রজ্ঞা তা অনন্য উচ্চতার। তাকে যদি আমরা ভৌগলিক বা সামাজিকভাবে ভাগ করতে চাই-এটা অসম্ভব।’

বিশ্বব্রহ্মাণ্ড নিয়ে কবি নজরুলের যে গভীর চিন্তা ও দর্শন তা নিয়ে গবেষণার বিস্তর সুযোগ রয়েছে। এবিষয়ে ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের পরিচালক রাজেশ পুরোহিত বলেন, ‘বাংলা-বিহার-উড়িষ্যা অভিন্ন অঞ্চল ছিল এককালে। আনডিভাইডেড ইন্ডিয়ার যে একটা কানেকটিভিটি আছে, তা কখনোই যাবে না। নজরুল হচ্ছেন, তেমনি অখন্ডতার এক সিম্বল। আরও বৃহৎভাবে দেখতে গেলে তিনি (কাজী নজরুল ইসলাম) এই কসমিক ওয়ার্ল্ডের কবি। নজরুলের জীবন ও সাহিত্য চর্চার মধ্য দিয়ে আমরা এমন একটি সমাজ পাব, যা নিয়ে সত্যি করতে পারব আমরা ভারতবর্ষের নাগরিক।’

‘‘ভাগ হয়নি ক’ নজরুল’ শীর্ষক যে সেমিনারের আয়োজন তা খুবই উল্লেখযোগ্য ব্যাপার। নজরুলচর্চার এই যে পথ সে পথ রাজপথে গিয়ে মিশবে-এই আশাবাদ’’-বলেন পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক বাসব চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে অতিথি ও পৃষ্ঠপোষক মাঝে সম্মাননা স্মারক ও উত্তরীয় পড়িয় দেন আয়োজকরা। অনিবার্যকারণবশতঃ অংশ নিতে না পারা অনুষ্ঠানের প্রবন্ধ উপস্থাপক বাংলাদেশের শীর্ষ দৈনিক কালের কণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক ও কথা সাহিত্যিক মোস্তফা কামাল-কে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয় অনুষ্ঠানে। দৈনিক প্রতিদিনের চিত্র’র সম্পাদক অয়ন আহমেদ এই ক্রেস্ট গ্রহণ করেন। 

আয়োজনে সঙ্গীত-নৃত্য ও গানের মাধ্যমেও প্রিয় কবিকে স্মরণ করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে নজরুল সঙ্গীত পরিবেশন করেন কল্যাণ দাস। নজরুলের ভাঙাগান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী লোকরত্ন গৌতম দে। কলকাতা দুদর্শনের শিল্পী কৃষ্ণপদ দাশ ও সুস্মিতা দাশ নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করেন। নৃত্য পরিবেশন করেন বাণীচক্রের নৃত্যশিল্পী অর্কসুতা চক্রবর্র্তী।

আয়োজনে সহযোগিতা দেয় আসানসোল ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ভিশন২৪, কলকাতার দৈনিক সুখবর, গুপ্তা ব্রাদার্স-চেতলা, বোরোসিল গ্লাস ওয়ার্কস ও বেলঘরিয়া নেচার অ্যান্ড কেয়ার ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। এতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল ‘বন্ধু এক আশা’।



মন্তব্য