kalerkantho


মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২১ মে, ২০১৮ ২১:৪৯



মাদক নিয়ন্ত্রণের নামে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে নতুন করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অভিযান শুরু হয়েছে। ভালো কথা। আমরা অবশ্যই চাই, মাদকমুক্ত হোক, যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় নিয়ে এসে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক, এই মাদক নির্মূল করা হোক। কিন্তু তার অর্থ এই নয়, বিনা বিচারে মানুষকে হত্যা করা হবে।

আজ সোমবার বিকালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনের ‘পুস্পদাম রেস্টুরেন্টে’ ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিশের আয়োজিত ইফতারপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ফখরুল এ কথা বলেন। 

ফখরুল বলেন, মাদক অভিযান হচ্ছে ভালো কথা। সবার আগে নিজের ঘরের মাদক ব্যবসায়ীদেরকে গ্রেপ্তার করম্নন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। আপনাদের কক্সবাজারের টেকনাফের এমপি (আবদুর রহমান বদি) তাকে তো জামিন দিয়ে দিয়ে ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি মহানন্দে এই ব্যবসা শুরু করেছেন। একজন দুই নয় অসংখ্য, প্রায় প্রত্যকটি জায়গায় তাদেরকেই আজকে আপনারা (সরকার) ছেড়ে দিয়েছেন যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

সমপ্রতি ক্রসফায়ারে হত্যাকান্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে ৬টি জেলায় ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে। আজকে গোটা দেশে ক্রসফায়ারের নামে বিচারবর্হিভুত হত্যার নামে বহু বিরোধী পক্ষকে হত্যা করা হয়েছিলো। আপনারা দেখেছেন কীভাবে গুম করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, চৌধুরী আলমকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৫/৬ বছর পার হয়ে গেছে-এরকম অসংখ্যক মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিচারের নামে যা খুশি তাই করছেন। দেখুন কত সংকীর্ণ এরা (সরকার)। মামলাগুলো মিথ্যা। ৩৬টি  মামলা করা হয়েছে তার বিরম্নদ্ধে তাতে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছিলো বাসে আগুন দিয়েছেন, গাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে ইত্যাদি। এই মামলাগুলো যখন হাইকোর্টে জামিনের জন্য এসেছে সেখানে গিয়ে এটর্নি জেনারেল বাঁধা প্রদান করেছে।

দেশের অর্থনীতি ও আর্থিকখাতে দুর্নীতি, মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট, শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম তুলে ধরে এর বিরুদ্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবানও জানান তিনি। ফখরম্নল বলেন, আজকে যদি আমরা এই দানবীয় শক্তিকে সরাতে না পারি তাহলে আমার দেশের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হবে।

মাহফিলের শুরুতে সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক আহমেদ আবদুল কাদের ও নায়েবের আমীর মাওলানা শফিক উদ্দিন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ইফতারে জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পারওয়ার, কল্যাণ পার্টিও সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আবদুর রকীব, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মোস্তফিজুর রহমান মোস্তফা, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, লেবার পার্টির মোস্তফিজুর রহমান ইরান, এমদাদুল হক চৌধুরী, শামসুদ্দিন পারভেজ, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুঁইয়া, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের শেখ মুজিবর রহমান, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা মাওলানা জাফরুল্লাহ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বিএনপির মেহেদি আহমেদ রুমি, মজিবর রহমান সারওয়ার, সাংবাদিক মহিউদ্দিন আলমগীর, আবদুল হাই শিকদার, রুহুল আমিন গাজী, এম আবদুল্লাহ, শহীদুল ইসলাম, বাসির জামাল প্রমুখ ইফতারে অংশ নেন।

খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমীর মাওলানা শাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আবদুল বাসিত আজাদ, অধ্যাপক মুহাম্মদ খালেকুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ শফিক উদ্দিন, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, মুহাম্মদ মুনতাসীর আলীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ইফতারে অংশ নেন।

ইফতারের আগে কারাবন্দি জোট নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং খেলাফত মজলিশের অসুস্থ আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাকের আরোগ্য কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।



মন্তব্য

saad commented 29 days ago
mr fokrul islam alomgir is oppose action against drug dealers because he financed them and he is lossing his money becausr of that action .