kalerkantho


জামালপুরে ব্রহ্মপুত্রের গতিপথ পরিবর্তনে চ্যানেলে হচ্ছে বালুর বাঁধ

৩ কোটি টাকাই জলে যাওয়ার শঙ্কা

জামালপুর প্রতিনিধি   

২০ মে, ২০১৮ ১৮:৩০



৩ কোটি টাকাই জলে যাওয়ার শঙ্কা

জামালপুর শহরমুখী খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদের চ্যানেলে হচ্ছে বালুর বাঁধ। ছবি : কালের কণ্ঠ

প্রায় সোয়া তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ব্রহ্মপুত্র নদের জামালপুর শহরমুখী চ্যানেলে ৫০০ মিটার ক্রস বাঁধ নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী মাটি কেটে উঁচু বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও নদ থেকেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলে বাঁধটি নির্মাণ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বাস্তবায়নে কার্যাদেশ পাওয়া মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে দিয়ে কাজটি করাচ্ছে। চ্যানেলটি খুবই খরস্রোতা হওয়ায় আসছে বর্ষায় বালুর বাঁধটি ধসে গিয়ে সরকারের ওই পুরো টাকাই জলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জামালপুর শহর রক্ষা বাঁধ প্রকল্প টেকসই করার লক্ষ্যে শহরের ফৌজদারি মোড়ের উজানে শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৫০০ মিটার ক্রস বাঁধের অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ নামের এ প্রকল্প হাতে নেয় জামালপুর পাউবো। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ১৫ লাখ ২০ হাজার টাকা। মূলত জামালপুর শহরঘেঁষা ব্রহ্মপুত্র নদের চ্যানেলটির গতিপথ ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্যই এই বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

গত বছরের অক্টোবরে দরপত্রে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে বাঁধটি নির্মাণের কাজ পায় ঢাকার এলএ-টিটিএসএল জয়েনভেঞ্চার কম্পানি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু জামালপুর পাউবো জানিয়েছে, জামালপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. ফজলুল হক, কাউন্সিলর মো. হেলাল উদ্দিন, শেরপুরের চরপক্ষীমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আকবর হোসেনসহ আরো অন্তত ১০ জনের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসেবে কাজটি করছে। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী মাটি কেটে বাঁধটি নির্মাণের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। প্রতি ঘনমিটার মাটি কাটা বাবদ ধরা হয়েছে ১০৫ টাকা। সেখানে প্রতি ঘনমিটার বালু তোলার খরচ পড়বে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। এতে সিন্ডিকেটটি বেশ লাভবান হবে।

গত বৃহস্পতিবার ব্রহ্মপুত্র নদের নির্মাণাধীন বাঁধের প্রকল্প এলাকায় গিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির নাম এবং প্রকল্পের কাজের ধরনসংক্রান্ত কোনো সাইডবোর্ডও দেখা যায়নি। বাঁধের পূর্বপাশে অন্তত ১৫টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদ থেকে বালু তুলে বাঁধ তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০০ মিটারের মধ্যে প্রায় ৩০০ মিটার বাঁধ বালু দিয়ে উঁচু করা হয়েছে। দরপত্র অনুযায়ী মাটি দিয়ে উঁচু বাঁধ নির্মাণের পর সেই বাঁধের ওপর থেকে দুই পাশে নিচে পর্যন্ত পুরোটা জিও টেক্সটাইলের চাদরে ঢেকে কিছু দূর পর পর বালুভর্তি জিও ব্যাগ দিয়ে চাপ দেওয়া হবে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কাজটি শেষ করার কথা। ব্রহ্মপুত্র নদের এই চ্যানেলটি বর্ষাকালে খুবই খরস্রোতা থাকে। চ্যানেলটির পানিপ্রবাহ সরাসরি জামালপুর শহর রক্ষা বাঁধে আঘাত হানে। ফলে চ্যানেলের মুখে বালুর বাঁধ টিকবে কি না, সে নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় প্রতিনিধি জামালপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. ফজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দরপত্রের শর্ত মেনেই আমরা এই বাঁধ নির্মাণ করছি। যেদিকে তাকানো যায় নদী আর নদী। এত বড় একটি বাঁধ নির্মাণ করতে গেলে এত মাটি কোথায় পাওয়া যাবে! তাই নদীর এ বালুমাটি ছাড়া কোনো উপায় নেই। বাঁধ নির্মাণে আমরা কোনো অনিয়ম করছি না।’

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী নব কুমার চৌধুরী বলেন, ‘বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী নদীতে বাঁধ নির্মাণের জন্য নদীর সুবিধাজনক স্থানে বালুমাটি খনন করার নির্দেশনা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বাঁধের কাছাকাছি সুবিধাজনক স্থান থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে এনে বাঁধ তৈরি করছে। মাটি দিয়ে করলে পুরোটাই ঘাস লাগাতে হতো। ঘাসের ওপর জিও টেক্সটাইলস টিকবে না। তাই বালু দিয়ে এ বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে।



মন্তব্য