kalerkantho


গৃহঋণ সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা নিম্নে ৩০ লাখ, খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ এপ্রিল, ২০১৮ ০৮:১৫



গৃহঋণ সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা নিম্নে ৩০ লাখ, খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত

সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণের খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এতে উপসচিব থেকে সচিব পদমর্যাদা পর্যন্ত জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তাদের জন্য সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা গৃহঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। তবে সর্বনিম্ন ১৮তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রস্তাবিত গৃহঋণ ৩৫ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্ত মন্ত্রণালয় সভায় খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

জানতে চাইলে অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা ও সর্বনিম্ন ৩০ লাখ টাকা গৃহঋণ নির্ধারণ করে খসড়া নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন এটি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সম্মতির জন্য পাঠানো হবে। তাঁর সম্মতির পর মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হবে।

বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, খসড়া নীতিমালায় ঢাকাসহ বিভাগীয় সদর এলাকায় গৃহ নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ক্রয়, জেলা সদর ও অন্যান্য এলাকায় গৃহ নির্মাণ ও ফ্ল্যাট ক্রয়ের জন্য ঋণের পরিমাণ তিন রকম প্রস্তাব করা হয়েছিল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সারা দেশের যেখানেই কোনো চাকরিজীবী গৃহ নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কিনুক না কেন, ঋণের পরিমাণ একই হবে। ফ্ল্যাট কেনা বা নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে ঋণ প্রদানের জন্য ডেট ইক্যুইটি রেশিও হবে ৯০ : ১০। অর্থাৎ ফ্ল্যাট কেনা বা নিজস্ব জমিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য কেউ নিজস্ব উদ্যোগে ১০ টাকা খরচ করলে তিনি ৯০ টাকা ঋণ পাবে।

এ ছাড়া চূড়ান্ত হওয়া খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী, সরকার ঋণের ১০ শতাংশ সুদের মধ্যে ৫ শতাংশ হারে ভর্তুকি দেবে। বাকি ৫ শতাংশ সুদ ঋণ গ্রহীতা পরিশোধ করবে। ঋণ গ্রহীতা ২০ বছরে এই ঋণ মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করবে। চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত এ ঋণ নেওয়া যাবে। সরকারের আওতাধীন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও কার্যালয়গুলোতে স্থায়ী পদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত বেসামরিক কর্মচারীরা কেবল এ সুবিধা পাবেন। সামরিক, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কম্পানি, পৃথক বা বিশেষ আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত কর্মচারীরা এ নীতিমালার আওতাভুক্ত হবেন না। এ হিসেবে সরকারের প্রায় ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী গৃহনির্মাণ ঋণ সুবিধা পাবেন।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পঞ্চম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তারা যেখানেই ভবন নির্মাণ বা ফ্ল্যাট ক্রয় করুন না কেন ৭৫ লাখ টাকা; নবম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেড পর্যন্ত ৬৫ লাখ, ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডের চাকরিজীবীরা ৫৫ লাখ টাকা, ১৪তম গ্রেড থেকে ১৭তম গ্রেড ৪০ লাখ, আর ১৮তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেড ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন।

নীতিমালার খসড়ায় ছিল, জাতীয় বেতন স্কেলের পঞ্চম গ্রেড থেকে প্রথম গ্রেডভুক্ত কর্মকর্তা, যাদের বেতন স্কেল ৪৩ হাজার বা তারও বেশি তাঁরা প্রত্যেকে ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে গৃহ নির্মাণ ঋণ পাবেন ৭৫ লাখ টাকা। জেলা সদরে এটি ৬০ লাখ ও অন্যান্য এলাকায় ৫০ লাখ টাকা হবে। নবম গ্রেড থেকে ষষ্ঠ গ্রেড সব সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৬৫ লাখ, জেলা সদরে ৫৫ লাখ ও অন্যান্য এলাকায় ৪৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেডে সিটি করপোরেশনে ও বিভাগীয় সদরে ৫৫ লাখ টাকা, জেলা সদরে ৪০ লাখ ও অন্যান্য এলাকায় ৩০ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। ১৪তম গ্রেড থেকে ১৭তম গ্রেডে সিটি করপোরেশনে ও বিভাগীয় সদরে ৪০ লাখ, জেলা সদরে ৩০ লাখ ও অন্যান্য এলাকায় ২৫ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। আর ১৮তম গ্রেড থেকে ২০তম গ্রেডে সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় সদরে ৩৫ লাখ টাকা, জেলা সদরে ২৫ লাখ ও অন্যান্য এলাকার জন্য পাবেন ২০ লাখ টাকা।



মন্তব্য