kalerkantho


তারিখ পরিবর্তন

৭ মে মহাকাশে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

বিশেষ প্রতিনিধি    

২৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:৩৫



৭ মে মহাকাশে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কম্পানি ‘স্পেসএক্স’ নতুন করে তারিখ নির্ধারণ না করলে এবং আবহাওয়াগত কোনো সমস্যা না থাকলে আগামী ৭ মে সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ মহাকাশে উৎক্ষেপণ হতে যাচ্ছে।  

স্পেসএক্স বুধবার জানিয়েছে, উৎক্ষেপণের সম্ভাব্য তারিখ ৪ মের পরিবর্তে ৭ মে নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিন দুপুরে বিটিআরসি সম্মেলন কক্ষে টেলিকম রিপোর্টারদের সংগঠন টিআরএনবি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট : সম্ভবনার মহাকাশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণস্থল ফ্লোরিডায় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়সহ সরকারের ৪২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল থাকবে।

এদিকে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অতিরিক্ত সচিব সাইফুল ইসলাম জানান, ৮ মে সকালে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মূল উদযাপন অনুষ্ঠান হতে পারে। এদিন বিকেলে রাজধানীর হাতির ঝিল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও উত্সবের আয়োজন থাকবে।  

এর আগে গত ১১ এপ্রিল বিটিআরসি চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ জানিয়েছিলেন, ৪ মে ফ্লোরিডার কেপ কেনাভেরালের লঞ্চ প্যাড থেকে স্পেসএক্স-এর ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষপণ করা হবে। গতকাল তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যে তথ্য আছে তাতে ৭ মে আবহাওয়া অনুকূলে থাকবে বলে আশা করা যায়।

বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক মো. মেজবাউজ্জামান বলেন, গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। কানেক্টিভিটির কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র পলিসি ফেলো আবু সাঈদ খান বলেন, বলা হচ্ছে যে ৭ থেকে ৮ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বিনিয়োগের পুরো টাকা উঠে আসবে। তবে এর ক্যাপাসিটি বুদ্ধিমত্তা দিয়ে বিক্রি করতে না পারলে সেলিব্রেশন করে লাভ নেই।

একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু বলেন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট যে অরবিটাল স্লটে স্থাপন করা হবে, তার মাধ্যমে কাজ করা বাংলাদেশের টেলিভিশনগুলোর জন্য হবে একটি চ্যালেঞ্জ। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডারের মধ্যে ২৬টি রাখছে কেইউ ব্যান্ডে। এই ব্যান্ডে এক ফোঁটা বৃষ্টি হলেও ফ্রিকোয়েন্সি কাজ করে না। বাকি ১৪টি সি-ব্যান্ডের জন্য আমরা আগ্রহী।

অন্যদের মধ্যে এডিএন টেলিকমের চিফ অপারেটিং অফিসার নাইম মোহাম্মদ ফাজলুন, ব্র্যাক ন্যানো স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালক খলিলুর রহমান আলোচনায় অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবি সভাপতি সজল জাহিদুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার দে।



মন্তব্য