kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

খালেদার কারাবাস, কোন পথে এগোবে বিএনপি?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০১৮ ০৮:৫৮



খালেদার কারাবাস, কোন পথে এগোবে বিএনপি?

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দওয়া জামিন আগামী ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেছেন  সুপ্রিমকোর্ট। তাঁর আইনজীবীরা এই আদেশকে নজিরবিহীন এবং অপ্রত্যাশিত বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁরা বলছেন, এখন খালেদা জিয়া খুব সহসা মুক্তি পাচ্ছেন না।

দলটির একাধিক নেতা স্বীকার করেছেন, এমন পরিস্থিতির জন্য বিএনপি প্রস্তুত ছিল না। তাঁদের মধ্যে নতুন করে এক ধরণের হতাশা তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপি পরিস্থিতিটাকে বাস্তবতা হিসেবে ধরে নিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে কৌশলে এগুতে চাইছে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় পাঁচ বছরের সাজা নিয়ে কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট চার মাসের জামিন দিয়েছিল। এখন সরকার এবং দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিমকোর্ট থেকে দেড় মাসেরও বেশি সময়ের জন্য জামিন স্থগিত হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলেছে ১০ বছর ধরে। কিন্তু সেই বিচার কার্যক্রম এখনই শেষ হয়ে যাবে, এমনটি ধারণা করতে পারেননি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। ফলে বিচার শেষে পাঁচ বছরের সাজা হওয়ার পর খালেদা জিয়াকে যখন জেলে নেওয়া হয়েছে, সেই পরিস্থিতিতে এসে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছে।

বিএনপি নেতাদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলেও অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্তি পাবেন, দলটিতে এমন ধারণাও তৈরি হয়েছিল।

দক্ষিণ পশ্চিমে খুলনায় বিএনপির ভালো অবস্থান রয়েছে। সেখানকার বিএনপির একজন সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খালেদা জিয়ার কারাবাস দীর্ঘায়িত হবে, এ ব্যাপারে তাঁরা প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি বলেন, 'বিএনপি এটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। এই যে নির্বাচন সামনে রেখে তাঁকে আটক রাখা হয়েছে। এর পেছনে বিএনপিকে ভাঙার ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দিতে পারে। নানা  ধরনের ষড়যন্ত্রের মধ্যে বিএনপিকে ফেলতে পারে।' 

বিএনপির এই নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু আরো  বলেছেন, 'বিএনপি বলুক যে বেগম জিয়ার মুক্তি না হলে তারা নির্বাচনে যাবে না। বিএনপি বলুক যে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা না হলে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এবং এ ধরনের প্রতিকূল পরিবেশে যাতে বিএনপি নির্বাচনে না যায়, তারই ষড়যন্ত্র চলছে।'

দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনেকের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে, তাদের শীর্ষ নেতাকে জেলে নেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়েছিল, সেটাকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচন সামনে রেখে জনগণকে সম্পৃক্ত করার কৌশল নিয়ে এগুনোর কথা দলের কেন্দ্র থেকে তাদের বলা হয়েছিল।

কিন্তু এখন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত হওয়ায় বিএনপি আবারো হোঁচট খেয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন।

উত্তরের রাজশাহী থেকে বিএনপির একজন নেতা জাহান পান্না জানান, তাঁদের তৃণমুলে আবার যে হতাশা তৈরি হলো, তা কাটিয়ে উঠতে সময় প্রয়োজন হবে। যদিও বিএনপিতে একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেওয়ায় মানুষের মাঝে একটা সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছে এবং গণসংযোগের মতো তাদের কর্মসূচিগুলোকে মানুষ সমর্থন করছে।

কিন্তু বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপির কর্মসূচি সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবির বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির ইস্যুর কাছে এখন নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার বিএনপির দাবি চাপা পড়ে গেছে।

'নির্বাচনের সময় সহায়ক সরকারের যে দাবি বিএনপি করেছিল, সেটা এখন 'ফরগট ইট' বা অতীত হয়ে গেছে। বিএনপি আর সে সুযোগ পাচ্ছে না। খালেদা জিয়ার কারাবাসের পর যে আন্দোলন গড়ে তোলার কথা ছিল, সেটা কিন্তু পারেনি। সব মিলিয়ে তাদের নেতৃত্বে এক ধরনের হতাশা এবং একই সঙ্গে কনফিউশন সৃষ্টি করেছে  বলে মনে করেন কবির।

বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়। সেই প্রেক্ষাপটে দলটি সতর্কতার সঙ্গে এগুবে বলে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বলে আসছেন। এখনো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, 'এখন খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত হওয়ায় তাদের দলে কিছুটা হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এরপরও তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে এগুতে চান।

'কিছুটাতো আপনার এতে ক্ষোভ হতাশা সবই সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ নেতাকর্মীদের। কিছুটা প্রভাবতো পড়বেই। তবে এটা ঠিক সরকারের দিক থেকে এটা আরেকটা প্রভোকেশন। যাতে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আমরা সচেতনভাবে চেষ্টা করছি, প্রভোকেশনে ট্র্যাপ্ট না হতে।'

বিএনপির নেতারা আরো বলছেন, জনগণকে সম্পৃক্ত করে এবং নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ থাকে, এই ধরনের কর্মসূচিই তাঁরা অব্যাহত রাখতে চাইছেন। তাঁরা মনে করেন, একটা কঠিন সময় তারা পার করছেন, এই পরিস্থিতিতে তাদের সিনিয়র নেতারা ঐক্যবদ্ধ আছেন।

তবে বিএনপি এখনো সরকারের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি বলে বিশ্লেষকরা যে বলছেন, সেখানে দলটি ভিন্ন রাজনৈতিক কৌশল নেওয়ার কথা বলছে।

বিএনপি চাইছে, তাদের জোট এবং সরকারের জোটের বাইরে থাকা দলগুলোর সঙ্গে যুগপৎভাবে কর্মসূচি নিয়ে এগুতে। এর মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে সব দলকে দাঁড় করানোর একটা চেষ্টা তাদের রয়েছে।



মন্তব্য