kalerkantho


'মা এখনো অফিছে, মনে হয় আর আছবে না'

‘কিভাবে ছেলেকে কবরে শোয়াব’

সরোয়ার আলম   

২০ মার্চ, ২০১৮ ০৮:৫১



'মা এখনো অফিছে, মনে হয় আর আছবে না'

বাবার কোলে কেবিন ক্রু শারমীন আক্তার নাবিলার সন্তান হিয়া

আর্মি স্টেডিয়ামের এক কোণায় বাবা আনান আহমেদের কোলে বসে আছে ইউএস-বাংলার কেবিন ক্রু শারমীন আক্তার নাবিলার প্রায় আড়াই বছর বয়সী মেয়ে ইয়ানা ইমাম হিয়া। এখনো ঠিকমত কথা বলতে শেখেনি। মা ওপারে চলে গেছেন তা এখনো বুঝতে পারেনি হিয়া।

‘মা এখনো অফিছে, মনে হয় আর আছবে না মা। বাবা বলেছে, মা নাকি অনেক পরে আছবে।’ বাবার কোলে বসে বলছিল হিয়া। তার কথা শুনে বাবা নির্বাক।

উড়োজাহাজের আরেক কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মোহাম্মদ সাফের স্বজনরাও শোকে কাতর। সাফের বাবা বলেন, ‘ছেলেকে কিভাবে কবরে শোয়াবো।’

গতকাল সোমবার বিকালে নেপাল থেকে নাবিলাসহ ২৩ জনের মরদেহ দেশে আনা হয়। বিমানবন্দর থেকে কফিন নিয়ে যাওয়া হয় আর্মি স্টেডিয়ামে। সেখানে জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আগ থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন নাবিলার স্বামীসহ অন্য আত্মীয়-স্বজনরা। আর নাবিলার মেয়ে হিয়া ছিল বাবার কোলে। এত লোকজন দেখে শুধু এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিল সে। মাঝে-মধ্যে মা, মা বলে ডাকছিলও। মা কোথায়? ‘আমার মা অফিছে। মনে হয় আর আছবে না। ঠিক বলছি না, বাবা।’ হিয়ার এমন জবাব নাবিলার স্বামীকে ছুঁয়ে যায়। মেয়ের গালে চুমু দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঠিক বলেছো মা।’

নাবিলার স্বামী ইমাম হাসান জানান, পূর্ব নাখাল পাড়ার নূরানী জামে মসজিদে আবার জানাজা হবে। এরপর মরদেহ তেজগাঁওয়ে দাফন করা হবে।

নাবিলার মা নীলা জামান টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাবিলা সংগ্রাম করে বড় হয়েছে। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছে। পড়ালেখায় ভালো ছিল ও। তার শখ ছিল বিমানে কাজ করার। কিন্তু মেয়ের কপালে সুখ সইল না।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নীলা জামান বলেন, ‘আমার মেয়ে আমার কোলে আর কোনোদিন ফিরবে না। চিরদিনের জন্য সন্তানকে হারালাম।’

সন্তানকে কিভাবে কবরে শোয়াবো: ইউএস-বাংলার আরেক  কেবিন ক্রু খাজা হোসেন মোহাম্মদ সাফের নিথর দেহ বুঝে নিতে এসেছেন স্ত্রী সাদিয়া রহমান, যিনি নিজেও একজন কেবিন ক্রু। তাঁর সঙ্গে এসেছেন শ্বশুর খাজা গোলাম মহিউদ্দিন সাইফুল্লাহ। ছেলেকে কোথায় দাফন করবেন— একজন গণমাধ্যমকর্মীর এমন প্রশ্নে তিনি আঁঁতকে উঠেন।  বলেন, ‘নিজের সন্তান, আমার বাচ্চা, তাকে কবর দেব, দাফন করব, এ শব্দটা এ মুখে উচ্চারণও করতে চাই না। ওকে পুরান ঢাকায় দাদীর কোলে শুইয়ে দিয়ে আসব।’ সাফের স্ত্রী সাদিয়া রহমান বলেন, ‘কি আর বলবো। ঘটনার দিন বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বলেছিল, আসতে আসতে রাত হবে। আমার জন্য কোন চিন্তা করিও না। আসলে আমি চিন্তা করি না। সেতো আমার বুকেই আছে। তাকে নিয়েই আমি সারাজীবন কাটিয়ে দিব।’


মন্তব্য