kalerkantho


বঙ্গবন্ধু আরেকটু সময় পেলে দেশ আরো আগেই উন্নত হত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মার্চ, ২০১৮ ১৮:২৮



বঙ্গবন্ধু আরেকটু সময় পেলে দেশ আরো আগেই উন্নত হত

জাতির পিতা দেশ শাসনের জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই সময়ের মধ্যেই তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্থ একটি প্রদেশকে গড়ে তুলে স্বল্প আয়ের দেশে উন্নীত করে যান।

তিনি যদি আরেকটু সময় পেতেন তা হলে বাংলাদেশ আরো আগেই একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে পারতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা দুটি বোন (তিনি এবং বঙ্গবন্ধু ছোট মেয়ে শেখ রেহানা) বিদেশে থাকায় বেঁচে গিয়েছিলাম। 

তিনি বলেন, ছয়টি বছর বিদেশে শরণার্থী হিসেবে কাটাতে বাধ্য হন, তাঁদের দেশে ফিরতে দেয়া হয়নি। একটা দুঃসহ যন্ত্রণার মধ্যদিয়ে স্বজন হারাবার বেদনা নিয়েই তাঁদের দিন কাটে। তারপরেও তাঁর বাবার স্বপ্ন- দুঃখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করে যাচ্ছেন।

শেখ হাসিনা আজ দুপুরে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার ৯৯তম জন্মদিন এবং জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আযোজিত শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে একথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ টুঙ্গিপাড়ায় জন্ম নেয়া খোকা একদিন হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির আশা আকাঙ্খার ধারক, বাহক। তার নেতৃত্বে সংগ্রামের পথ ধরেই ১৯৭১ সাল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানের কবল থেকে মুক্ত হয় স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। সেই খোকা পরে পরিচিত হয়ে উঠেন ‘বাংলার বন্ধু’ বা বঙ্গবন্ধু নামে, পান জাতির জনকের উপাধি।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে এদেশের মুক্তিকামী জনগণ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্ত আর দু লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। 

বাংলাদেশের একটা শিশুও পথশিশু থাকবে না, সে লক্ষ্য বাস্তায়নেই তাঁর সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি শিশু লেখাপড়া শিখে মানুষের মত মানুষ হবে, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলবে। এ দেশের প্রতিটি মানুষ ঘর পাবে, খাদ্য পাবে, রোগে চিকিৎসা পাবে, সুন্দর জীবন পাবে এবং তাঁরা বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে চলবে।

১৯৭৫ এর পর ২১ বছর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারায় দেশ পিছিয়ে পড়েছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরপর আবার ২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসতে পারেনি। ফলে আরো ৭ বছর পিছিয়ে যায় এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পরই তাঁর সরকারের নানামুখি পদক্ষেপে দেশে আবারও উন্নয়নের ধারা সূচিত হয়।

সরকার প্রধান বলেন, আজকে আমাদের জন্য একটা সুখের সংবাদ। জাতির পিতার জন্মদিনেই এই সংবাদটা আমরা পেলাম, যে আমাদের এতদিনের প্রচেষ্টার ফলে আজকে বাংলাদেশে, যে বাংলাদেশ স্বল্পন্নোত দেশ ছিল, সেই দেশ জাতিসংঘ কতৃর্ক উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 

তিনি বলেন, অর্থাৎ আমাদের প্রতিবেশি দেশগুলি যেমন-ভারত, শ্রীলংকা এমনকি পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ উন্নয়নশীল দেশ। আমরাও সে কাতারে সামিল হয়েছি। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা একধাপ পিছিয়ে পড়েছিলাম। আজকেই আমরা খবর পেয়েছি আমরা আর পিছিয়ে পড়ে নেই। এই অঞ্চলের সকল দেশের সঙ্গে সমানতালে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। আমরা চলতে পারবো। 

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার যে স্বপ্ন- ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা সেই পথেই আমরা আরো একধাপ এগিয়েছি। তাই আজকে জাতির পিতার এই জন্মদিনে এই সুখবরটা বাংলাদেশের জন্য একটা বিরাট অর্জন বলে আমি মনে করি। সেজন্য সকলকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। 

২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন হবে উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, এরমধ্যে আমরা ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। আমি বিশ্বাস করি আমরা তা করতে পারবো। 

এসময় তিনি শিশুদের মনোযোগী হয়ে লেখাপড়া করার তাগিদ দেন। উল্লেখ করেন শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের উপবৃত্তি ও বিশেষ ভাতার কথা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক জেলা যেন ভিক্ষুকমুক্ত হয় সে ব্যবস্থা করেছি আমরা। গ্রামেও যেন উন্নত জীবন যাপন করা যায় সে চেষ্টা করা হচ্ছে। শিশুদের ভবিষ্যত যেন সুন্দর হয় সেজন্য আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি। তারাই এদেশকে গড়ে তুলবে, এ দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিশুদেরকে মনযোগ দিয়ে লেখাপড়া করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আজকের শিশুরা আগামী দিনের যারা ভবিষ্যত কর্ণধার এ দেশের। তাদের কেউ প্রাইম মিনিস্টার হবে আমার মতো, কেউ বড় বড় চাকরি করবে, কেউ বিভিন্ন জায়গায় যাবে, উন্নত হবে, এ দেশকে গড়ে তুলবে।’

তাঁর সরকার শিশুদের মন মানসিকতা, শরীর, স্বাস্থ্য সব কিছু উন্নত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা খেলাধূলা, সংস্কৃতি চর্চার দিকে বিশেষভাবে নজর দিয়েছি। বিভিন্ন ধরনের খেলা, এমনকি গ্রামের হারিয়ে যাওয়া খেলাধূলাগুলোও এখন যাতে প্রতিযোগিতা হয় তারও পদক্ষেপ নিয়েছি।’

প্রধানমন্ত্রী পরে বাংলাদেশ শিশু একাডেমী এবং গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।


মন্তব্য