kalerkantho


সশস্ত্র বাহিনীতে নারী সাড়ে তিন হাজার

কাজী হাফিজ   

৮ মার্চ, ২০১৮ ১৫:৩৯



সশস্ত্র বাহিনীতে নারী সাড়ে তিন হাজার

বাংলাদেশের অনেক মা-বাবার বুক গর্বে ভরে দিয়েছেন মিলিটারি একাডেমির দীর্ঘমেয়াদি কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে কমিশনপ্রাপ্ত তাঁদের সামরিক কর্মকর্তা মেয়েরা। সৈনিক পদেও সাহসিকতার সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন অনেকে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনছেন এসব নারী। মধ্য আফ্রিকার গৃহযুদ্ধকবলিত দেশ ডিআর কঙ্গোর আকাশে এমআই-১৭ হেলিকপ্টার উড়িয়ে সেখানে শান্তিরক্ষায় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন এ দেশের দুই কৃতী নারী।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত ৬ মার্চ কালের কণ্ঠকে জানায়, সেনাবাহিনীতে বর্তমানে নারী কর্মকর্তার সংখ্যা চিকিৎসকসহ এক হাজার ২৮০ জনের কাছাকাছি। সর্বোচ্চ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে কর্মরত তাঁরা। নিয়মিত কোর্সে যোগ দেওয়া নারী কর্মকর্তারা বর্তমানে  সর্বোচ্চ মেজর পদে কর্মরত। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন শাখায় পুরুষ সহকর্মীদের সঙ্গে সমান মর্যাদা ও যোগ্যতা নিয়ে কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনীতে বর্তমানে নারী সৈনিকের সংখ্যা এক হাজার ৮৬০ জনের কাছাকাছি। সেনাবাহিনীর নারী সদস্যদের আনুমানিক ২৩০ জন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নিয়েছেন এবং বর্তমানে ৬০ জনের মতো কর্মরত আছেন। 

বিমানবাহিনীতে নারী কর্মকর্তা ১৭৩ জন। সর্বোচ্চ উইং কমান্ডার পদে কর্মরত আছেন। আর নৌবাহিনীতে রয়েছেন ১১৩ জন নারী কর্মকর্তা ও ৪৪ জন নাবিক। এ বাহিনীর নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে কমান্ডার রোবাইয়া নুর পপি জাহাজ নির্মাণ পরিদপ্তরের উপপরিচালক পদে কর্মরত রয়েছেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে রয়েছেন দুজন। 

প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনীতে মেডিক্যাল কোরের পাশাপাশি ২০০০ সালে অন্যান্য কোরেও নারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত দেশের তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। সেনাবাহিনীর নিয়মিত কমিশনে যোগ দিতে আবেদন করেন ১৪ হাজার ৯৬০ তরুণী। তার আগেই নৌবাহিনীতে নারী কর্মকর্তা নিয়োগ শুরু হলেও সেনাবাহিনীর এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়টি খুব প্রচার পায়। আবেদনকারী তরুণীদের মধ্যে প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, আইএসএসবি (ইন্টার সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ড) ও মেডিক্যাল পরীক্ষা শেষে ৪৭ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের জন্য মনোনীত হন ৩০ জন। এ কোর্সটি ছিল শুধু নারীদের জন্য। এই দীর্ঘমেয়াদি কোর্স সম্পন্ন করে ২০০২ সালের ডিসেম্বরে সেনাবাহিনীর ইতিহাসে সর্বপ্রথম ২০ জন তরুণী নিয়মিত কমিশন লাভ করেন। ওই কোর্সের বাকি ১০ জনের মধ্যে কয়েকজন ৪৮ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অংশ নিয়ে প্রশিক্ষণ শেষ করার সুযোগ পান। ৪৮ বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্স থেকে একই সঙ্গে নারী-পুরুষ নিয়োগের ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

নিয়মিত কমিশনের প্রথম নারী সেনা কর্মকর্তারা এখন মেজর থেকে লে. কর্নেল হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। বিমানবাহিনীতেও নারী কর্মকর্তা নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয় একই সময়। নৌবাহিনীতে সর্বপ্রথম ২০০০ সালের ১২ জানুয়ারি নারী ক্যাডেট/অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়।

সশস্ত্র বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আরেকটি মাইলফলক হয়ে রয়েছে ২০১৫ সালের ২৯ জানুয়ারি। সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথম যুক্ত ৮৭৯ জন নারী সৈনিক মৌলিক সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এ দিন শপথ গ্রহণ করেন।

সাম্প্রতিক কৃতিত্ব : পশ্চিম আফ্রিকার দেশ আইভরি কোস্টে দৃষ্টান্তমূলক নেতৃত্ব এবং জাতিসংঘকে সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর কর্নেল ডা. নাজমা বেগম ২০১৬ সালের ১৬ আগস্ট জাতিসংঘের বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন। তাঁকে ওই বছরের জন্য ‘মিলিটারি জেন্ডার অ্যাডভোকেট অব দি ইয়ার’  ঘোষণা করা হয়। কর্নেল নাজমা বেগম ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেনাবাহিনীর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নারী কন্টিনজেন্ট কমান্ডার হিসেবে আইভরি কোস্টে যান এবং সেখানে পাঠানো ৫৬ সদস্যের মেডিক্যাল কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেন।

বাংলাদেশে বিমানবাহিনীতে নাইমা হক ও তামান্না-ই-লুিফ বৈমানিক হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর তামান্না-ই-লুিফ বেল-২০৬ হেলিকপ্টারে প্রথম একক উড্ডয়নে সক্ষমতা অর্জন করেন। তামান্নার পর নাইমা হকও একক উড্ডয়ন সক্ষমতা অর্জন করেন। গত ৭ ডিসেম্বর তাঁরা দেশের প্রথম নারী পাইলট হিসেবে ডিআর কঙ্গোতে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যোগ দেন। সেখানে তাঁরা বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারের কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

২০১৩  সালের ১২ ফেব্রুয়ারি এক হাজার মিটার উচ্চতা থেকে মোট ছয়বার লাফ দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্যারাট্রুপার হিসেবে সনদ অর্জন করেন সেনাবাহিনীতে তখন ক্যাপ্টেন পদে থাকা জান্নাতুল ফেরদৌস। এর পর ওই বছরের ৮ এপ্রিল মেজর নুসরত নূর আল চৌধুরী (আর্টিলারি) বাংলাদেশের দ্বিতীয় নারী প্যারাট্রুপার হিসেবে সফলভাবে তাঁর পঞ্চম প্যারাশুট জাম্প সম্পন্ন করেন।

 

 


মন্তব্য

Rezaul commented 16 days ago
Tonu raped by whom ???????/