kalerkantho


যশোর-বেনাপোল সড়কের গাছ কাটায় সংসদীয় কমিটির আপত্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২১:০৮



যশোর-বেনাপোল সড়কের গাছ কাটায় সংসদীয় কমিটির আপত্তি

ছবি : সংগৃহীত

যশোর-বেনাপোল সড়কের শতবর্ষী গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্তে ফের আপত্তি জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। আজ রবিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই আপত্তি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের দুরাবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করতে যশোর যাওয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এজন্য একটি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

কমিটি সূত্র জানায়, কমিটির সদস্য রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিককে আহবায়ক করে গঠিত তিন সদস্যের এ কমিটি যশোর-বেনাপোল আন্তর্জাতিক মহাসড়কের পাশাপাশি যশোর-খুলনা সড়ক ও যশোর-ঢাকা সড়কের দুরাবস্থা খতিয়ে দেখবে। বৈঠকে আলোচনাকালে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের শতবর্ষী গাছগুলো না কেটে সড়কটি পুনঃনির্মাণের পরামর্শ দিয়েছে কমিটি। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়কে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। 

এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এক বৈঠক শেষে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত শতবর্ষী গাছগুলো কাটার সিদ্ধান্ত ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করা হয়। 

ওই বৈঠক পরবর্তী এক প্রেসব্রিফিং-এ কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ বলেন, ‘শতবর্ষী গাছগুলো কাটার বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ নিয়মানুযায়ী পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র নেয়নি। এমনকি বনবিভাগের মতামতও নেয়নি। ফলে ওই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিলো না। আদালতের আদেশে ওই গাছ কাটা স্থগিত রাখা হয়েছে। কিন্তু কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত গাছগুলো কাটা যাবে না। গাছ রেখেই সড়ক সম্প্রসারণ করতে হবে।’ 

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্যরাও বৈঠকে একই সুরে কথা বলেছেন। এসময় সরকার দলীয় এক সংসদ সদস্য গাছ কাটার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি সড়ক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও কথা বলেন। 

ওই মহাসড়কের দুরাবস্থার কারণে প্রতিদিন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সরকার দলীয় দলের ভোট কমছে বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, কমিটির আগের বৈঠকে খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ওই সড়কের দুরাবস্থার কথা বলেছিলেন। ওই এলাকায় গিয়ে সড়কের হাল দেখে তিনিও বিব্রত হয়েছেন। তিনি এই সমস্যার সমাধানে কমিটির পক্ষ থেকে একটি উপ-কমিটি করার প্রস্তাব দেন। এ সময় সভাপতি মো. একাব্বর হোসেনসহ অন্যান্য সদস্যরা তার সাথে একমত পোষণ করেন। 

এদিকে বৈঠকে ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রীজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টেও আওতায় পশ্চিম-দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ৬১টি সেতু নির্মাণের কাজ গুরত্ব দিয়ে মনিটরিং করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া মির্জাপুরের মধ্যে দিয়ে পুরাতন ঢাকা-ময়মনসিংহ সংকীর্ণ সড়কটি প্রশস্ত করতে বলেছে কমিটি। এছাড়া ওই সড়কের ঝুঁকিপুর্ণ সেতু পুনঃনির্মাণ করার জন্যে মন্ত্রণালয়কে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, লুত্ফুন নেছা ও নাজিম উদ্দিন আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য