kalerkantho


সংসদে সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি শিক্ষাতেও নৈরাজ্যে বিরুপ ধারণার জন্ম হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২০:৫০



ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি শিক্ষাতেও নৈরাজ্যে বিরুপ ধারণার জন্ম হচ্ছে

ব্যাংকিং খাতের পাশাপাশি শিক্ষা খাতে নৈরাজ্য চলছে জানিয়ে এসব কারণে জনমনে সরকার সম্পর্কে বিরুপ ধারণার জন্ম হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সরকারের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি। তিনি দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস ও পানি সংকট খুন, ধর্ষণ, গুমের ঘটনা তুলে ধরে এখনই এসব বন্ধ করা না গেলে প্রধানমন্ত্রীর যোগ্যতার প্রতি জনগণের বিপুল আস্থা-বিশ্বাসের পরও সংশয়-সংকট তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন।
 
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনাকালে এসব মন্তব্য করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই আলোচনায় মন্ত্রী শিক্ষা খাত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে সুবাতাস টেকেনি। এবারের প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহামারী কেবল পরীক্ষার্থী নয়, তাদের অভিভাবকদেরও সরকার সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব নিতে রাজী নয়। শতভাগ পাস আর জিপিও-৫ এর ওই ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা অতিক্রম করতে পারে না। 

মাদ্রাসা শিক্ষার সমালোচনা করে রাশেদ খান মেনন বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়ণ করা হচ্ছে। এমনকি কওমী মাদ্রাসার স্বীকৃতির পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেসব প্রতিষ্ঠানে কি শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে তা কারো বিশেষ অজানা নয়। আমার সাবেক ড্রাইভারের ভাইকে আমার কাছে পাঠিয়েছে কর্মসংস্থানের জন্য। সে মাদ্রাসায় পড়েছে। নামাজের নিয়ম-কানুন দূরে থাক, সুরা ফাতেহাও সে জানে না। এমনিতেই এই বহুমুখী শিক্ষা আমাদের সমাজ সংস্কৃতিকে বিভক্ত করছে, তার ওপর যা তৈরি করা হচ্ছে, তাতে তারা হয় মাদকাসক্ত অথবা জঙ্গিবাদীতে পরিণত হবে। 

ব্যাংকিং খাতে দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। খেলাপী ঋণ বেড়েই চলেছে। সরকারকে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলোর মূলধন জোগাতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির টাকা ফিরে পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা আমি জানি না। প্রতিনিয়ত বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে। এই পাচারকৃত অর্থে বাংলাদেশের কয়েকটি বাজেট হতে পারে। 

দুর্নীতির জন্য খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট শাসনের সঙ্গে তারেকের দুর্নীতির ক্ষুদ্রাংশ এটি। অনেকে এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি খুঁজছে। কিন্তু ১৪ দলের ২৩ দফায় দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তাই পূরণের সূচনা হল মাত্র। দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নকে বিচারের আওতায় আনা ও তাকে পরিণতিতে নিয়ে যাওয়া জরুরি। খালেদা জিয়ার এই মামলা শেষ করতে ১০ বছর লেগেছে। এই দীর্ঘ সূত্রিতা জনমনের আস্থাকে কমিয়ে দেয়। জনগণ আশা করে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। কেবল দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলেই জাতীয় প্রবৃদ্ধি আরো দুই শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সরকারি দলের নেতাদের সমালোচনা করে মেনন বলেন, এটি নির্বাচনের বছর। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, গ্যাস সংকট, পানি সংকট এসব দৈনন্দিন বিষয় মানুষকে আলোড়িত করে। আতঙ্কিত করে খুন, ধর্ষণ, গুমের ঘটনাবলী। মানুষ বিরক্ত হয় দলবাজী, দখলবাজী, অন্তর্দলীয় কোন্দলে। এক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া গেলে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেবে। এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। 

সরকার সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী-জঙ্গিবাদী শক্তি এবং দুর্নীতি-দুর্বৃত্তায়নের ধারকদের রুখে দিতে পেরেছে দাবি করে বাম নেতা মেনন বলেন, এই সরকার তাদের কলিজায় হাত দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের তারা বিদেশি দূতাবাসে পুনর্বাসিত করেছিল, ইনডেমনিটি আইনে তাদের বিচার বন্ধ করে রেখেছিল, তাদের বিচার করে ফাঁসি দিয়েছি। যুদ্ধাপরাধীদের গাড়িতে তারা জাতীয় পতাকা তুলে দিয়েছিল। সেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহের বিচার হয়েছে। এখন খালেদা-তারেকের দুর্নীতি, হত্যা-হামলার বিচার হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচন বন্ধে তারা চেষ্টা করেছিল। সরকারের দৃঢ়তা ও জনগণের প্রতিরোধে তারা ব্যর্থ হয়। এবার সেই প্রতি আক্রমণের মোকাবিলায় অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তির, উন্নয়নের শক্তির দৃঢ় ঐক্য ছাড়া বিকল্প নেই। নির্বাচনে-রাজপথের লড়াইয়ে ১৪ দলের সেই ঐক্যকে আরো কার্যকর রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 



মন্তব্য