kalerkantho


সংসদে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের অবসরপ্রাপ্ত প্রধানদের বিল পাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২০:০৫



সংসদে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের অবসরপ্রাপ্ত প্রধানদের বিল পাশ

অবসরে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাহিনীর (সেনা নৌ ও বিমান) প্রধানরা সাংবিধানিক পদে নিয়োগ পেতে পারবেন- এমন বিধান রেখে জাতীয় সংসদে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধাদি) আইন-২০১৮ পাস হয়েছে। আজ সোমবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাচাই ও সংশোধনীর প্রস্তাব দেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র এমপিরা। কন্ঠভোটে তাদের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। 

এর আগে বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হলে তা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটি বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যালোচনা করতে ৩ সদস্যর সাব-কমিটি গঠন করে। মুহাম্মদ ফারুক খানকে আহ্বায়ক করে গঠিত সাব কমিটিতে মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী ও বেগম হোসনে আরা বেগম সদস্য ছিলেন। পরে কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বিলটি আজ সংসদে পাসের চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়। 

পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, আপাতত বলবৎ অন্য কোন আইন দ্বারা বাধা আরোপিত না হইয়া থাকিলে অবসরপ্রাপ্ত কোনো বাহিনী প্রধান সাংবিধানিক কোন পদে নিয়োগ লাভের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন না। বিলের উপ-ধারা ৯৩ এর বিধান সাপেক্ষে বাহিনী প্রধানের নিয়োগের মেয়াদ হইবে একসঙ্গে বা বর্ধিতকরণসহ নিয়োগ প্রদানের তারিখ হইতে অনুর্ধ্ব চার বছর। এছাড়া বিলে প্রতি মাসে বাহিনী প্রধানের বেতন ৮৬ হাজার টাকা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

বাহিনী প্রধানদের পুন:নিয়োগ প্রসঙ্গে বিলে বলা হয়েছে- বাহিনী প্রধান অবসরপ্রাপ্ত হওয়া বা স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করার পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো সামরিক বা বেসামরিক পদে পুন:নিয়োগ লাভে অযোগ্য হবেন। এ বিষয়ে শর্ত উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে আবশ্যক মনে করিলে অবসরপ্রাপ্ত কোনো বাহিনী প্রধানকে চুক্তি ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো বেসামরিক পদে নিয়োগ দান করতে পারবেন। 

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬২ অনুচ্ছেদ এর বিধান মতে, সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগ দান ও তাদের বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ করার বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়া সত্বেও প্রতিরক্ষা বাহিনী সমূহের প্রধানদের নিয়োগ ও বেতন-ভাতাদি সম্পর্কিত কোন আইন প্রণয়ন করা হয়নি। 

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের নিয়োগ ও বেতন-ভাতাদির বিষয়টি সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবস্থিত না হয়ে বর্তমানে যৌথ বাহিনী নির্দেশনাবলী নামীয় ইন্সট্রুমেন্ট দ্বারা অন্যান্য সকল সামরিক কর্মচারির সঙ্গে একীভূতভাবেই ব্যবস্থিত হচ্ছে। এ ধরনের যৌথ বাহিনী নির্দেশনাবলীর পাঠোদ্ধার অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। যে কারণে সংসদ কর্তৃক আইন প্রণয়ন করে বাহিনী প্রধানদের নিয়োগ এবং বেতন ও ভাতাদি সম্পর্কিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন করা প্রয়োজন। 



মন্তব্য