kalerkantho


সংসদে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

ঢাকায় দেড় শতাধিক নতুন পাবলিক টয়লেট হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:৫২



ঢাকায় দেড় শতাধিক নতুন পাবলিক টয়লেট হবে

ফাইল ছবি

রাজধানীতে জনসংখ্যার অনুপাতে পাবলিক টয়লেটের অপ্রতুলতার কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, এই সংকট কাটাতে ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি) উত্তর ও দক্ষিণের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগরীতে নির্মাণ করা হবে দেড় শতাধিক নতুন পাবলিক টয়লেট। এগুলোকে মহিলা ও প্রতিবন্ধীবান্ধব হিসেবে তৈরি করা হবে বলেও জানান তিনি। আজ সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান। 

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্ন উত্থাপন করেন সরকারী দলের সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, ‘জায়গার অপ্রতুলতার কারণে নতুন পাবলিক টয়লেট নির্মাণের স্থাপন নির্বাচন করা একটি প্রধান সমস্যা। বিদ্যমান টয়লেটগুলোর অধিকাংশ ইজারাদারের বিরুদ্ধে মামলা বা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ থাকায় সেগুলো ভেঙ্গে নতুনভাবে নির্মাণ করতে দেরি হচ্ছে।’
 
একই প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, ডিসিসি উত্তরে মোট ৩৭টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। প্রতিটিতে নারীদের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে টয়লেটের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উন্মুক্ত স্থানগুলোর আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আরো ৭৩টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ডিসিসি দক্ষিণে মোট ৫৩টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। প্রতিটি পাবলিক টয়লেটে এ নারীদের জন্য স্বতন্ত্র ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ডিসিসি দক্ষিণ এলাকায় ৫৯টি পেট্টল পাম্প ও সিএনজি স্টেশন রয়েছে। ওই সব পাম্প ও স্টেশনের ২টি বাদে সবগুলোতে টয়লেট সুবিধা রয়েছে। যা জনসাধারণ ব্যবহার করতে পারে। 

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার এই অংশে কর্পোরেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) মাধ্যমে মোবাইল পাবলিক টয়লেট সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবু জনসংখ্যার অনুপাতে টয়লেটের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়।  

তিনি জানান, সম্প্রতি ওয়াটার এইড নামের একটি এনজি ও সাথে ডিসিসি দক্ষিণের মধ্যে ১৫টি আধুনিক পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে। যার অধিকাংশ ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। 

খন্দকার মোশাররফ জানান, ডিসিসি দক্ষিণ আধুনিক আরো ৪৭টি পাবলিক টয়লেট নতুনভাবে নির্মাণ ও ১৭টি বিদ্যমান টয়লেট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব টয়লেটকে মহিলা ও প্রতিবন্ধীবান্ধব করা কথাও বলেছেন মন্ত্রী। 

মন্ত্রী আরো জানান, ডিসিসি দক্ষিণ ১৯টি পার্ক ও ১২টি খেলার মাঠ উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে। এসব পার্ক ও খেলার মাঠেও মহিলাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাসম্পন্ন পাবলিক টয়লেটের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সদস্য টিপু সুলতানের প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নিরাপদ পানি ও কৃষি কাজে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর ৩ মিটার হতে ১০ মিটার পর্যন্ত নীচে নেমে গেছে। ফলে শুষ্ক মৌসুমে নলকূপে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পাওয়া যায় না। এ অবস্থা হতে উত্তরণের জন্য সরকার ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পানি সংরক্ষণ ও নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষে জেলা পরিষদের পুকুর, দীঘি, জলাশয়সমূহ পুন:খনন / সংস্কার’ শীর্ষকএকটি প্রকল্প  গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশে ৮০৯ টি পুকুর পুন:খনন করা হচ্ছে।
 
তিনি আরো জানান, আর্সেনিক মুক্ত নিরাপদ পানি সরবরাহের লক্ষে পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুকি নিরসন প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। এক হাজার ৯৯০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার এই প্রকল্পের কাজ ২০২১ সালের জুনে শেষ হবে।

সরকারী দলের এম আবদুল লতিফের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৮৭ শতাংশ জনগণ নিরাপদ পানি সুবিধার আওতাভুক্ত। সে হিসেবে ১৩ কোটি ৯২ লাখ জনগণ নিরাপদ পানির সুবিধা ভোগ করে। দেশের ৯৯ শতাংশ মানুষ স্যানিটেশনের আওতাভুক্ত বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য