kalerkantho


পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক আলোচনায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে নেপিডোর সঙ্গে নতুন শুরুর আশা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৩:২২



রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে নেপিডোর সঙ্গে নতুন শুরুর আশা

ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা সংকটকে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কে যন্ত্রণাদায়ক ইস্যু হিসেবে অভিহিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তিক্ত হয়েছে। বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয়ভাবে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের মাধ্যমে মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কে নতুন সূচনা আনতে চায় বাংলাদেশ। গতকাল বুধবার সকালে ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটিজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ দেশের আট দফা অগ্রাধিকারভিত্তিক পররাষ্ট্র নীতির কথা উল্লেখ করেন। ওই পররাষ্ট্র নীতির প্রথম লক্ষ্য হচ্ছে ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরো বাড়ানো। তবে দ্বিপক্ষীয়ভাবে ভারতের সঙ্গেই বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক বলে মন্ত্রী জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্রসীমাবিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ এ সমুদ্র অর্থনীতির ওপর আরো জোর দিচ্ছে। আঞ্চলিক অন্তর্ভূক্তিকরণ ও কানেক্টিভিটিকেও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারমূলক পররাষ্ট্রনীতি হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন। মন্ত্রী বলেন, ‘সার্ক, বিমসটেক, সাসেক, বিসিআইএম, বিবিআইএন ইত্যাদি আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি প্রকল্পে বাংলাদেশ আরও বেশি ভূমিকা রাখবে।’

মাহমুদ আলী বলেন, কাছের প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আর তত্পরতা চালাবে। কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারির জন্য বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারত, চীন, জাপান, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারি জোরদার করেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাংলাদেশের আরেকটি অগ্রাধিকারভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি। এ দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার পাবে মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থাকে উত্সাহিতকরণ। 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ তাদের দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়েছে। একাত্তরের গণহত্যার বৈশ্বিক স্বীকৃতির ওপর বাংলাদেশ গুরুত্বারোপ করছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা ধরে রাখাও এ দেশের পররাষ্ট্র নীতির অগ্রাধিকার। রূপকল্প ২০২১ ও রূপকল্প ২০৪১ এর আলোকে বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নে কাজ করা অব্যাহত রাখবে। 

সেমিনারের বিশেষ অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। বিআইআইএসএস চেয়ারম্যান মুনশি ফয়েজ আহমেদ ও মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম আবদুর রহমান সেমিনারে বক্তব্য রাখেন।



মন্তব্য