kalerkantho


এবার ইসিবি চত্বর থেকে কালশী ফ্লাইওভার হচ্ছে

একনেকে ১২৪১৫ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৩:৪৮



এবার ইসিবি চত্বর থেকে কালশী ফ্লাইওভার হচ্ছে

রাজধানীর যানজট কমাতে এবার মিরপুর এলাকায় ইসিবি চত্বর থেকে কালশী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের সদ্ধিান্ত নিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি ওই এলাকার রাস্তাও চওড়া করা হবে। ৬১৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর এনইসি সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভায় মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

সভায় রাজশাহীর প্রবেশদ্বার তালাইমারী চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মাণসংক্রান্ত একটি প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হবে ৬০ কোটি টাকা। জাতির পিতার স্মৃতি রক্ষা এবং তাঁর দর্শন ও স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানাতে এ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া পানি সরবরাহে আর্সেনিকের ঝুঁকি কমাতে আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এক হাজার ৯৯০ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে। প্রকল্প এলাকায় প্রতি ৭৫ জনের জন্য একটি নিরাপদ পানির উৎস নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, মোট ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ১২ হাজার ৪১৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এসব প্রকল্পে ১১ হাজার ৮২২ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে। প্রকল্প সহায়তা হিসেবে বিদেশি উত্স থেকে বাকি ৫৯২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পর্যাপ্ত জলাধার নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব জলাধারে পানি ধরে রেখে কৃষিকাজেও ব্যবহার করা যাবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, মিরপুরে নতুন ফ্লাইওভারটি খুব সুন্দর হবে। এটি রাজধানীর ওই অংশের যানজট নিরসনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, রাজধানীর যানজট কমাতে আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে সম্প্রতি আলাদা একটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। গতকাল অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে এ প্রকল্পের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া অনুমোদন পাওয়া উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে এক হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। সিরাজগঞ্জে যমুনা নদী থেকে পুনরুদ্ধার করা ভূমির উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষায় নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫০৯ কোটি টাকা। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় সাঙ্গু এবং ডলু নদীর তীর সংরক্ষণে একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩৩৩ কোটি টাকা।

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্পের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬৫ কোটি টাকা। অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো ১২৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরে খুলনা শহরে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ, ৮৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ের ১৬০ উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং অ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার ফর এডুকেশন স্থাপন, ২১৬ কোটি টাকা ব্যয়ের মন্দিরভিত্তিক শিশু গণশিক্ষা কার্যক্রম, ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ের লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন, ৯০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ঢাকা-সিলেট-তামাবিল-জাফলং জাতীয় মহাসড়কের জৈন্তা থেকে জাফলং পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন এবং পাঁচ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ের নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ।



মন্তব্য