kalerkantho


প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধানদের নিয়োগ ও বেতন

স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন প্রণয়নে সংসদে বিল উত্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৩:৪০



স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন প্রণয়নে সংসদে বিল উত্থাপন

প্রতিরক্ষা বাহিনীপ্রধানদের (সেনা, নৌ ও বিমান) নিয়োগ এবং বেতন ও ভাতাদি সম্পর্কিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে একটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। উত্থাপিত বিলে অবসরে যাওয়া প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধানদের সাংবিধানিক পদে নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধানটিতে বলা হয়েছে, 'আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইন দ্বারা বাধা আরোপিত না হইয়া থাকিলে অবসরপ্রাপ্ত কোনো বাহিনীপ্রধান সাংবিধানিক কোনো পদে নিয়োগ লাভের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন না।'

গতকাল মঙ্গলবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে 'প্রতিরক্ষা বাহিনীসমূহের প্রধানদের (নিয়োগ, বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা) আইন-২০১৮' নামের এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন সংসদকাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
বিলে বলা হয়েছে, বাহিনীপ্রধানের নিয়োগের মেয়াদ হবে একসঙ্গে বা বর্ধিতকরণসহ নিয়োগ প্রদানের তারিখ থেকে অনূর্ধ্ব চার বছর। এ ছাড়া বিলে প্রতি মাসে বাহিনীপ্রধানের বেতন ৮৬ হাজার টাকা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাহিনীপ্রধানদের পুনর্নিয়োগ প্রসঙ্গে বিলে বলা হয়েছে, বাহিনীপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত হওয়া বা স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করার পর প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো সামরিক বা বেসামরিক পদে পুনর্নিয়োগ লাভে অযোগ্য হবেন। এ বিষয়ে শর্ত উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি জনস্বার্থে আবশ্যক মনে করলে অবসরপ্রাপ্ত কোনো বাহিনীপ্রধানকে চুক্তি ভিত্তিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মে কোনো বেসামরিক পদে নিয়োগ দান করতে পারবেন।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৬২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানদের নিয়োগদান ও তাঁদের বেতন ও ভাতাদি নির্ধারণ করার বিধান থাকলেও দীর্ঘদিন অতিক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানদের নিয়োগ ও বেতন-ভাতাদি সম্পর্কিত কোনো আইন প্রণয়ন করা হয়নি। এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানদের নিয়োগ ও বেতন-ভাতাদির বিষয়টি সংবিধানের নির্দেশনার আলোকে স্বতন্ত্রভাবে ব্যবস্থিত না হয়ে যৌথ বাহিনী নির্দেশনাবলি নামীয় ইন্সট্রুমেন্ট দ্বারা অন্য সব সামরিক কর্মচারীর সঙ্গে একীভূতভাবেই ব্যবস্থিত হচ্ছে। এ ধরনের যৌথ বাহিনী নির্দেশনাবলির পাঠোদ্ধার অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।

আরো বলা হয়েছে, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ কর্তৃক আইন প্রণয়ন করে বাহিনীপ্রধানদের নিয়োগ এবং বেতন ও ভাতাদি সম্পর্কিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ আইন করা প্রয়োজন।



মন্তব্য