kalerkantho


সংসদে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:৩৯



সংসদে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল পাস

মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রসমূহ সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রোধ করার লড়্গ্যে সুনির্দিষ্ট বিধান করে জাতীয় সংসদে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল-২০১৮ পাস করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এই বিলটির উপর জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম মিলন, রুস্তম আলী ফরাজী ও বেগম রওশন আরা মান্নান জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। তবে তা কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। তবে তাদের একটি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
 
পাস হওয়া বিলে কোন হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না মর্মে বিধান করা হয়েছে। সংযোজনের অনুমতির জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরকার বরাবর আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ করলে হাসপাতালকে অনুমতি প্রদান করা হবে। বিলের বিধান কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে উক্ত অনুমোদন নিতে হবে। কোনো হাসপাতাল এ বিধান লংঘন করলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্থাপিত বা প্রতিষ্ঠিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সংক্রান্ত হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

বিলে সুস্থ, স্বাভাবিক বুদ্ধি সম্পন্ন কোন জীবিত ব্যক্তির এমন কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্তির কারণে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশংকা না থাকলে তা কোন নিকট আত্মীয়ের দেহে সংযোজনের জন্য দান করার বিধান রাখা হয়েছে। তবে চক্ষু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ড়্গেত্রে নিকট আত্মীয় হবার প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় তার কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ লিখিতভাবে দান করলে তা উক্ত ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোন ব্যক্তির দেহে সংযোজনের উদ্দেশে বিযুক্ত করা যাবে বলে বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে ব্রেইন ডেথ ঘোষণা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা, গ্রহিতার যোগ্যতা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে। সেখানে ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়স দুই বছরের কম অথবা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হলে তা সংগ্রহ করা যাবে না বলে বিধান করা হয়েছে। তবে চক্ষু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না। জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছরের কম অথবা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে পুনঃউৎপাদনশীল টিস্যুর ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহিতা রক্ত সম্পর্কিত ভাই-বোন হলে অথবা চক্ষু, অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

এ ছাড়া মৃত্যুর পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে লিখিত আপত্তি করলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কার্যকারিতা কোনো কারণে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, চক্ষু, অস্থিমজ্জা ও যকৃত প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে, এইচবিএসএজি, এন্টিএইচসিবি অথবা এইচআইভি পজেটিভ থাকলে, মেডিক্যাল বোর্ড কর্তৃক অযোগ্য ঘোষণা করা হলে, চর্ম বা মস্তিষ্কের প্রাইমারি স্টেজ ক্যান্সার ব্যতিত অন্য কোন যে ধরনের ক্যান্সার, কিডনি সংক্রান্ত রোগ, এইচ আই বি বা হেপাটাইটিস ভাইরাস, মেলিগন্যান্ট হাইপারটেনশন, জীবাণু সংক্রান্ত জনিত রোগ থাকলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদানে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে না বলে বিধান করা হয়েছে।

বিলে বয়স দুই বছর থেকে ৭০ বছর সীমার মধ্যে না হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহিতা হিসেবে বিবেচিত হবেন না বলে বিধান করা হয়। তবে শর্ত থাকে ১৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সসীমার ব্যক্তি কোন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যক্তিগণ গ্রহিতা হিসেবে অগ্রাধিকার পাবেন। আর কর্ণিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

বিলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বা প্রতিস্থাপনে মেডিক্যাল বোর্ড গঠন ও এর কার্যাবলী প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন ও এর কার্যাবলী, ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি গঠন ও এর কার্যাবলী, ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন পদ্ধতি, রেজিস্ট্রার সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে। এ ছাড়া উল্লেখিত বিধান লংঘনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও হাসপাতালের জন্য সুনির্দিষ্ট পৃথক দণ্ড বিধান করা হয়েছে।



মন্তব্য