kalerkantho


সংসদে বন ও পরিবেশ মন্ত্রী

সহজলভ্য বিকল্প তৈরি না হওয়ায় পলিথিনের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করা যাচ্ছে না

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ১৯:২৫



সহজলভ্য বিকল্প তৈরি না হওয়ায় পলিথিনের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধ করা যাচ্ছে না

বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, সহজলভ্য বিকল্প তৈরি না হওয়ায় পলিথিনের উৎপাদন ও বিপণন পুরোপুরি বন্ধ করা যাচ্ছে না। আজ জাতীয় সংসদে সরকারি দলের মিসেস আমিনা আহমদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এই কথা জানান।

তিনি বলেন, পরিবেশ আইন অনুযায়ী পলিথিনের উৎপাদনে কিছু কিছু বিধি নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে সব ধরনের পলিথিন উৎপাদন নিষিদ্ধ নয়। রফতানিকৃত পণ্যের বাজারজাত রেণু পোণা পরিবহন, মাশরুম চাষ ও প্যাকেজিং কাজে এবং নার্সারির চারা উৎপাদন ও বিপণনের জন্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে পলিথিন উৎপাদন ছাড় দেওয়া হয়েছে। এ সুবিধার অপব্যবহার করে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন উৎপাদন, বিপণন করা হচ্ছে।

সরকারি দলের মামুনুর রশীদ কিরণের অপর এক প্রশ্নের জবাবে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ জানান, রাজধানী ঢাকা এবং চট্টগ্রামসহ সারাদেশে বায়ু দুষণ রোধ এবং প্রকাশ্যে ধুমপান বন্ধ করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বায়ু দূষণ রোধে সরকার নির্মল বায়ু ও টেকসই পরিবেশ কেইস নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের অধীন বায়ু দুষণ মনিটরিং, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা এবং অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের জনবহুল ৮টি শহরে ১১টি সার্বক্ষণিক বায়ুমান পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করে বায়ুমান পরীক্ষা করা হচ্ছে। 

মন্ত্রী বলেন, এছাড়া দেশের সকল ইটভাটায় বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ৬৫ দশমিক ২০ ভাগ ইটভাটা আধুনিক প্রযুক্তিতে রুপান্তর করা হয়েছে। প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে এয়ার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপনে বাধ্য করা হচ্ছে। যানবাহনে বায়ু দূষণরোধে বিভিন্ন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ৫ হাজার যানবাহনকে ১৪ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

মন্ত্রী বলেন, এছাড়া সারাদেশে পরিবেশ সুরক্ষায় সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় সকল নদীর পানি দূষণ রোধেও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার ২০১৭ সালে ১হাজার ৩৮৫টি তরল বর্জ্য নির্গমণ হতে ১৭৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আরোপ করে এর মধ্যে ১০৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১হাজার ৬১৯টি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে শিল্প বর্জ্য দূষণ হ্রাস করার লক্ষ্যে ২৭৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে জিরো ডিসচার্জ পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। 

জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড হতে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় ১৯টি উপকূলীয় জেলায় ১২৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮৫টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে মন্ত্রী সংসদকে জানান।



মন্তব্য