kalerkantho


শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, তাপমাত্রা আরো কমতে পারে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৯:০৭



শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, তাপমাত্রা আরো কমতে পারে

ছবি অনলাইন

হঠাৎ সারা দেশে নেমে এসেছে কনকনে শীত। মাঘ মাসে নয়; এবার যেন  পৌষেই বাঘ কাঁপনো ঠাণ্ডা নেমেছে। রাজধানীসহ গোটা দেশ কাঁপছে শীতে। প্রতিদিন নামছে তাপমাত্রা। বিশেষত উত্তরাঞ্চলে ঠাণ্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় করছেন রোগীরা।

এদিকে শীতের পাশাপাশি রয়েছে ঘন কুয়াশা। ফলে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে উত্তর দিক থেকে আসা হুল ফুটানো শীতল বাতাস আর কনকনে ঠাণ্ডা দেশের উত্তরাঞ্চলে আগেভাগে শুরু হওয়ার পর এখন ধেয়ে আসছে রাজধানী ঢাকাসহ মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলের দিকে। দেশের প্রায় সব জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।

শুক্রবার শীতলতম দিন ছিল যশোরে। সেখানে তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে হঠাৎ জোরেশোরে শীতল বাতাস বইতে শুরু করায় ঠাণ্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা বড় করুণ।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে দেড় বছরের এক শিশু।

বিভিন্ন স্থানে ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পেরে খড়-কাঠে আগুন জ্বালিয়ে শরীর গরমের চেষ্টা করছেন দরিদ্ররা। বিশেষ করে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় কাহিল অবস্থা উত্তরের জেলাগুলোর ছিন্নমূল মানুষের। সেখানে বর্তমানে দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২০ ঘণ্টাই আকাশ থাকে মেঘ ও কুয়াশাচ্ছন্ন। বিকাল থেকে পরদিন আধাবেলা পর্যন্ত থাকছে দাপুটে শীত। সন্ধ্যার পর থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশা ঝরছে টিপ টিপ করে।

কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো দিনের বেলায়ও হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। পাশাপাশি ট্রেনগুলো অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে। সন্ধ্যার পর সাধারণ মানুষ নেহায়েত গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বেরুচ্ছেন না। দিনের বেলায় সূর্য কিছু সময়ের জন্য দেখা গেলেও তা যেন মোটেও উত্তাপ ছড়াতে পারছে না। তীব্র শীতের কারণে দরিদ্র মানুষ কাজে যেতে না পেরে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। নিম্ন ও মধ্য আয়ের লোকজন দারুণ অসহায় হয়ে পড়েছেন।

কৃষিকাজে ব্যাঘাত ঘটছে ঠাণ্ডায়। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের। ছত্রাক জাতীয় রোগ দেখা দিয়েছে। প্রচণ্ড শীতের কারণে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন শীতজনিত রোগ বালাই। হাসপাতালে বেড়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, আমাশয়. হাঁপানি পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন রোগীর সংখ্যা।
 
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্ত রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার অবধি শীতের তীব্রতা কমবে না। তাপমাত্রা ক্রমশ হ্রাস পাবে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলিসিয়াস নেমে যাবে। এ মাসেই তিনটি শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা আছে। জানুয়ারিতে দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে একটি মাঝারি (৬ ডিগ্রি-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস), একটি তীব্র (৪ ডিগ্রি-৬ ডিগ্রি সে.) ধরনের শৈত্য প্রবাহ, অন্যত্র দুই থেকে তিনটি মৃদু (৮ ডিগ্রি ১০ ডিগ্রি সে.) বা মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।



মন্তব্য