kalerkantho


ঘুম ভাঙেনি বিদেশি ফুটবলারের, বাসা থেকে লাশ উদ্ধার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ২০:৪৬



ঘুম ভাঙেনি বিদেশি ফুটবলারের, বাসা থেকে লাশ উদ্ধার

রাজধানীর রামপুরা থানা এলাকার একটি বাসা থেকে বেলা বশ্য নামে লাইবেরিয়ার এক নাগরিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার দিবাগত রাতে হাতিরঝিল লাগোয়া মহানগর প্রজেক্টের ডি ব্লকের তিন নম্বর রোডের ৬১ নম্বর এস এম ভবনের নিচ তলার বাসায় তার মৃত্যু হয়। তিনি চট্টগ্রাম মহামেডানের ফুটবলার ছিলেন। 

রামপুরা থানার ওসি প্রলয় কুমার সাহা বলেন, ওই বিদেশির দেহে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে রাতে ঘুমের মধ্যে ‘স্ট্রোকের’ কারণে তার স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তার বাসার মধ্যে কিডনির ওষুধ ও ব্যবস্থাপত্র পাওয়া গেছে। 

ওসি বলেন, ওই বিদেশি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে রয়েছে। তার সঙ্গে কারো কোন বিরোধের তথ্য পাওয়া যায়নি। অসুস্থ থাকার কারণে তিনি কারো সঙ্গে ঠিকমত মিশতেনও না। ঢাকায় তার তেমন কোন বন্ধুও নেই। শরীরে কোনো আঘাত না থাকায় ধারনা করা হচ্ছে অসুস্থজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।   

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া থেকে ২০০৮-০৯ সেশনে চট্টগ্রাম মহামেডান স্পোর্পোটিং ক্লাবে খেলার জন্য বাংলাদেশে এসেছিলেন। এরপর বিভিন্ন ক্লাবে ভাড়ায় ফুটবল খেলতেন তিনি। তবে সর্বশেষ এদেশে তার পেশা কি ছিল সে তথ্য পাওয়া যায়নি। তার পাসপোর্ট ভিসার মেয়াদও নেই। 

বাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তার বাসার নিচ তলার দুটি কক্ষ নিয়ে একাই ভাড়া থাকতেন বেলা বশ্য নামে ওই বেদিশি। তিনি খ্রিস্টান ধর্ম পালন করতেন। কিডনি, ডায়েবেটিক ও হার্টের সমস্যাসহ নানান জটিল রোগে ভুগছিলেন তিনি। এর আগে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলেও রোগ তার পিছু ছাড়েনি।   

আজ দুপুরে ওই বাসায় গিয়ে জানা যায়, বুধবার রাত ১১টার দিকে ওই বেদিশি বাইরে থেকে বাসায় ঢোকেন। এরপর রাতের খাবার খেয়ে ভেতর থেকে দরজা খোলা রেখেই ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ১২টার দিকে ওই বাসার দারোয়ান জসিম উদ্দিন দরজা খোলা দেখে ডাক দিয়ে তার কোন সারা শব্দ পাননি। এরপর জসিম বাসার ভেতরে ঢুকেও তাকে বেশ কয়েকবার ডাক দেন। কিন্তু সে কোন সারা দেয়নি। এমনকি তার ঘুমও ভাঙ্গেনি। এতে ভয় পেয়ে যান দারোয়ান জসিম।

জাসিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই বিদেশি আগে থেকেই অনেকটা নিরিবিলি ছিলেন। অসুস্থ থাকার কারনে অনেক সময় দড়া খোলা রেখেই তিনি ঘুমাতেন। তবে ডাকলে সারা দিতে। কিন্তু গত রাতে তাকে অনেকবার ডেকেও সারা শব্দ পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি খারাপ দেখে বাড়ির মালিককে বিষয়টি জানানো হয়। তখন বাড়ির মালিক জরুরি কাজে বাসার বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে তিনি বাসায় এসে ওই বিদেশির কক্ষে ঢুকে তাকে মৃত ভেবে পুলিশকে খবর দেন। এরপর রাত ১টার দিকে পুলিশ অনেকটা নিশ্চিত হন, ঘুমের মধ্যে ‘স্ট্রোক’ করে অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিত্সকরা পুলিশকে জানায়, সে চিরদিনের জন্য না ফেরার দেশে চলে গেছে।  

রামপুরা থানা পুলিশ জানায়, রাত ২টার দিকে ঢামেক জরুরি বিভাগের চিকিৎসকরা বেলা বশ্য (৩৪) নামে ওই বিদেশিকে মৃত ঘোষণা করেন। 
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে থেকেই কিডনি ও হৃদক্রিয়ায় ভুগছিলেন ওই বিদেশি। মূলত অসুস্থতার কারণেই তিনি দরজা খোলা রেখে ঘুমাতেন। লোকটি খুব মিশুক ছিলেন। ভোরের দিকে উঠে দৌড়াতেন। কথা কম বলতেন। 

বাড়ির মালিক শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, অসুস্থতার কারণে ওই বিদেশিকে বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন অনেকবার। তবে ওই বিদেশি তাকে বলতেন, দেশে ফেরার অর্থ নেই তার কাছে। দেশে ফোন করে স্বজনদের এসে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধও করেছি জানিয়ে বাড়ির মালিক বলেন, তিনি (বেলা বশ্য) ফোন করে নিজ দেশের স্বজনদের অনেকবার টাকা পাঠানোর কথা বলেছিলেন। আমাকেও জানিয়েছিলন। তবে দেশের স্বজনদের আর্থিক সামর্থ না থাকায় টাকা পাঠাতে পারেনি বলে সে দাবি করেছিল। আর এ কারণেই দেশে ফিরে যেতে পারেননি বলে মনে হচ্ছে।



মন্তব্য