kalerkantho


জাতীয় কমিটির জরিপ ও পর্যবেক্ষণ

বিদায়ী বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ হাজার ২৮৪ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০৬



বিদায়ী বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ হাজার ২৮৪ জন

ফাইল ছবি

বিদায়ী বছরে সারা দেশে ৩ হাজার ৪৭২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ২৮৪ জন নিহত ও ৯ হাজার ১১২ জন আহত হয়েছেন। গত বছর সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় ১৬ বেড়েছে।
জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক, মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে এসব দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে নৌ সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) বার্ষিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

জাতীয় কমিটির দেওয়া তথ্য মতে, ২০১৬ সালে ২ হাজার ৯৯৮টি দুর্ঘটনায় ৪৭০ নারী ও ৪৫৩ শিশুসহ ৩ হাজার ৪১২ জন নিহত ও ৮ হাজার ৫৭২ জন আহত হয়েছেন। তবে আগের বছর ২০১৫ সালে ৪ হাজার ৫৯২টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৬ হাজার ৮২৩ জন ও ১৪ হাজার ২৬ জন। সেই হিসেবে, ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির হার যথাক্রমে ১৫ দশমিক ৮২ ও ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেড়েছে। যা উদ্বেগজনক বলে কমিটি মনে করে।

জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২২টি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং আটটি অনলাইন নিউজপোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। বছরব্যাপী পর্যবেক্ষণে দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য ৯টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে জাতীয় কমিটি। এর মধ্যে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি, স্থানীয়ভাবে তৈরি দেশীয় ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং, জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা, দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও বেহাল সড়ক, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব এবং অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ উল্লেখযোগ্য।

এ বিষয়ে জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে কালের কণ্ঠকে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্তৃপক্ষগুলোর যথাযথ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতার অভাবই দায়ী। দুর্ঘটনা সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনতে হলে গণপরিবহন খাতের নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দূর করতে হবে। সে ড়্গেত্রে শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র ও উপযুক্ত বেতন-ভাতা প্রদান এবং চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে জরুরি বলে মনে করেন করেন তিনি।
 
জরিপ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর ফেব্রুয়ারিতে সর্বাধিক ৩৭২টি দুর্ঘটনায় ৫৬ নারী ও ৫৮ শিশুসহ মোট ৪৭২ জন নিহত এবং এক হাজার ৯৪ জন আহত হয়েছেন। একই বছর আগস্টে সর্বনিম্ন ২১৭টি দুর্ঘটনায় ২৫ নারী ও ৩১ শিশুসহ ২৭৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। আর আহত হন ৫০৩ জন। এ ছাড়া ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ৩৫০টি দুর্ঘটনায় ৫৪ নারী ও ৫৫ শিশুসহ ৪১৬ জন নিহত ও এক হাজার ১২ জন আহত হয়েছেন। মার্চে ৩৩০টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬২ জন; যার মধ্যে ৪৯ নারী ও ৫৪ শিশু রয়েছে। আর আহত হয়েছেন ৮৬৫ জন। এপ্রিলে ৩২০টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৮ শিশুসহ ৩৪৯ জন নিহত এবং ৮৬১ জন আহত হয়েছেন। মে মাসে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৪৬টি; এতে ৫২ নারী ও ৫৮ শিশুসহ ৪১০ জন নিহত ও এক হাজার ১৬ জন আহত হন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে ২৬৫টি দুর্ঘটনায় ৩৪ নারী ও ৪২ শিশুসহ ৩৩৩ জন নিহত ও ৬৩২ জন আহত হয়েছেন। জুলাইয়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে ২১৯টি; এতে নিহত ও আহত হয়েছেন যথাক্রমে ২৭৯ ও ৫১৭ জন। নিহতদের মধ্যে ২৭ নারী ও ৩৫ শিশু রয়েছে। সেপ্টেম্বরে ২৪৯টি দুর্ঘটনায় ৩৮ নারী ও ৩৯ শিশুসহ ৩৫৬ জন নিহত এবং ৬০৫ জন আহত হয়েছেন। অক্টোবরে ২৫৮টি দুর্ঘটনায় ৩৭৯ জন নিহত ও ৬৮১ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ৪১ নারী ও ৪৫ শিশু রয়েছে। নভেম্বরে ২৩৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯ নারী ও ৪২ শিশুসহ ৩৪১ জন নিহত ও ৬০৯ জন আহত হয়েছেন। ডিসেম্বরে ৩১০টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতের সংখ্যা যথাক্রমে ৩৩৫ ও ৭১৭। নিহতদের মধ্যে ৫৪ নারী ও ৩২ শিশু রয়েছে।



মন্তব্য