kalerkantho


অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করুন : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ২২:২৩



অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করুন : প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার সুরক্ষায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি দেশের দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সমাজের সুষম উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সক্ষম হব।’

প্রতি বছরের মতো দেশে এবারো আগামীকাল মঙ্গলবার ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস-২০১৮’ পালন করা হচ্ছে জেনে সন্তোষ প্রকাশ করে শেখ হাসিনা দিবসটি উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকলকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, এ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘নারী-পুরুষ নির্বিশেষ, সমাজসেবায় গড়ব দেশ’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অসহায় ও অনগ্রসর মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি প্রবর্তন এবং শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে শিশু আইন, ১৯৭৪ প্রণয়নসহ কেয়ার এন্ড প্রটেকশন সেন্টার (সরকারি শিশু পরিবার) প্রতিষ্ঠা করেন।

তিনি বলেন, জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময়ই দেশের দরিদ্র মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিগত ৯ বছরে দেশের সুস্থ, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, প্রতিবন্ধী, কিশোর-কিশোরী, স্বামী নিগৃহিতা মহিলা ও প্রবীণ ব্যক্তিবর্গসহ অসহায় মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সকল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যথা হিজড়া, বেদে ও দলিত সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আমরা প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। এছাড়া ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। শহর সমাজসেবা কার্যক্রম, হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম ও মাতৃকেন্দ্রসমূহ বিভিন্ন ধরণের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবঘুরে ও নিরাশ্রয় ব্যক্তি (পুনর্বাসন) আইন ২০১১, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন ২০১৩, নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন ২০১৩ এবং পিতামাতার ভরণ-পোষণ আইন ২০১৩, শিশু আইন ২০১৩ প্রণয়ন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, এ ছাড়াও প্রতিবন্ধী ব্যক্তির উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির তথ্যের সমন্বয়ে একটি ডাটাবেজ, সামাজিক নিরাপত্তমূলক কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের তথ্যভাণ্ডার শিরোনামে ওয়েব বেইজড সফটওয়্যার তাঁর আমলেই তৈরি করা হয়েছে ।

তিনি বলেন, দ্রুত ও সহজে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ই-পেমেন্ট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা শিশুদের সহায়তায় চাইল্ড হেল্প লাইন ১০৯৮ (টোল ফ্রি) সেবা চালু করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি সমন্বয় ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ‘জাতীয় সমাজসেবা দিবস ২০১৮’ উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।



মন্তব্য