kalerkantho


সাত বছরেও নেই সংরক্ষণের পদক্ষেপ

অরক্ষিত বেরোবি বধ্যভূমি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা    

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১১:৪৪



অরক্ষিত বেরোবি বধ্যভূমি

স্বাধীনতার পর ৪৬ বছর কেটে গেলেও এখনও চিহ্নিত হয়নি মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিবিজড়িত রংপুরের দমদমায় অবস্থিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বধ্যভূমি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসার সাত বছর পার হয়ে গেলেও এখনো অরক্ষিত অবস্থায়ই পড়ে আছে বধ্যভূমিটি। যাদের রক্তের বিনিময়ে আজকের স্বাধীনতা সেই বীর শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ না করায় বিঘ্নিত হচ্ছে বধ্যভূমির প্রকৃত মর্মার্থ।

জানা যায়, বেরোবি প্রশাসন বধ্যভূমিটির দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত বছরেও নির্ধারণ হয়নি এর সীমানা প্রাচীর। ফলে বধ্যভূমির অনেক জায়গা বেদখল হয়ে গেছে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থানটির সংরক্ষণ না করায় নতুন প্রজন্মের কাছে অগোচরেই রয়ে গেছে ঐতিহাসিক এ স্থান।

সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বধ্যভূমিটি অরক্ষিত থাকার পর ২০০০ সালের ১৪ ডিসেম্বর কারমাইকেল কলেজ শিক্ষক পরিষদ সেখানে একটি স্মৃতিফলক নির্মাণ করে। দীর্ঘদিন অযত্ন  আর অবহেলায় পড়ে থাকায় এবং সীমানা প্রাচীর না থাকায় সেখানে ব্যবসায়ীরা কাঠের গুঁড়ি রেখে ব্যবসা করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। সেখানে অবাধে বিচরণ করছে গরু-ছাগল। এতে একদিকে যেমন পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বধ্যভূমির জায়গা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অধীনে চলে যাচ্ছে। প্রশাসনের অবহেলার ফলে নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে বেরোবির একমাত্র বধ্যভূমি।

বধ্যভূমির জায়গায় ব্যবসা করছে রুহুল আমীনসহ সাতজন ব্যক্তি। তারা গত তিন বছর ধরে বধ্যভূমির জায়গায় গাছের গুঁড়ি রেখে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদেরকে কখনো বাধা দেওয়া হয়নি বলে জানান তারা। শুধু বছরে দুই-একবার যখন ফুল দিতে আসার জন্য  শুধু ফুল দেওয়ার সামনের জায়গাটুকু পরিষ্কার করে দেওয়ার কথা বলা হয় এসব ব্যবসায়ীদের। ফুল দিয়ে চলে গেলে আবার জায়গাটি তাদের দখলে থাকে বলেও জানান তারা।

রংপুর মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় সূত্র জানায়, রংপুর-বগুড়া মহাসড়কের দমদমা ব্রিজের কাছে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী কারমাইকেল কলেজের ছয় শিক্ষকসহ শত শত মানুষকে ধরে এনে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করে।

অবশেষে ২০১০ সালের ২৯ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ ও বধ্যভূমি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রথমদিকে কিছু মাটি কেটে সাইনবোর্ড টাঙানো হলেও দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় সাত বছর পরও সেটির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না করায় পবিত্র স্থানটি আজ পরিণত হয়েছে গোচারণ ভূমিতে।

সর্বশেষ চলতি বছরের গত ১৪ জুন বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ যোগদানের কিছু দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। তবে সীমানা নির্ধারণ কিংবা গবেষণার জন্য সংরক্ষণের বিষয়ে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি বধ্যভূমিটি নিশ্চিহ্ন হওয়ার আগেই এখানে স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ করা।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, 'দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এ বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ইতিমধ্যে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সাইনবোর্ড লাগানোর ব্যবস্থা করা হয়। সীমানা নিধারণ, সংরক্ষণের জন্য যাবতীয় উন্নয়নের জন্য একান্ত সচিব (উপাচার্যের পিএস) আমিনুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বধ্যভূমিটির নকশার জন্য স্থপতির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।'

সীমানা নিধারণের বিষয়ে উপাচার্য আরো বলেন, 'সীমানা নির্ধারণের সঙ্গে স্থানীয় কমিউনিটির একটি বিষয় রয়েছে। তাই স্থানীয় কমিউনিটির সঙ্গে যাতে কোনো মনোমালিন্য না ঘটে সে ব্যাপারে খেয়াল রেখেই সীমানা নির্ধারণের কাজ করতে হবে।' 


মন্তব্য