kalerkantho


আনন্দ সমাবেশে স্পিকার

'৭ মার্চের ভাষণ অন্যায়-বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার অনুপ্রেরণা'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২১:৪৫



'৭ মার্চের ভাষণ অন্যায়-বৈষম্যের বিরুদ্ধে জেগে ওঠার অনুপ্রেরণা'

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ যুগ যুগ ধরে অন্যায়-বৈষম্যের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতিকে জেগে ওঠার অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, ভাষণের আবেদন চিরন্তন-এ ভাষণের বাণী ম্লান হয় না। বারবারই শোনার উদ্রেক করে। আজ সোমবার বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতিতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত আনন্দ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

স্পিকার বলেন, বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশ ও জাতি গর্বিত। এ স্বীকৃতি বিশ্বের বুকে আরও গৌরবের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নিঃসন্দেহে বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা যোগাবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভাষণটি সংরক্ষণের ফলে বিশ্বের নিপীড়িত-নির্যাতিত সকল মানুষ এ থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহস ও প্রেরণা খুঁজে পাবে।

“জয় বাংলা-বাংলার জয়” মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা যোগানো ঐতিহাসিক এ গানের সুরে সুরে মুখরিত সমবেত জনতার উদ্দেশে স্পিকার বলেন, বিজয়ের এ মাসে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করিয়ে দেয় বঙ্গবন্ধুর চৌকষ নেতৃত্বের স্মৃতি।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, এ ভাষণের অন্তর্নিহিত অর্থ ছিল শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের হুংকার- সর্বোপরি বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠার রূপকল্প। তাই এ ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে-৭ মার্চের ভাষণ তাই নিপীড়িত, বঞ্চিত ও শোষিত মানুষের ঘুরে দাঁড়াবার প্রত্যয়। বঙ্গবন্ধুর সরল-সহজ ভাষা সেদিন আন্দোলিত করেছিল বাংলার মানুষকে, প্রত্যেক মুক্তিকামী জনতাকে। '৫২ এর ভাষা আন্দোলন, '৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, '৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, '৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন, '৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান, '৭০ এর নির্বাচন-এ ধারাবাহিকতায় বাংলার স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের মূল ভিতই ছিল '৭১ এর ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ।

স্পিকার বলেন, বঙ্গবন্ধু বঞ্চিত, অধিকারহারা মানুষদের ধারণ করতে পেরেছিলেন বলেই এক আঙুলের ইশারায় দিক হারা জাতি খুঁজে পেয়েছিল নতুন ঠিকানা। সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ছিনিয়ে এনেছিলেন লাল সূর্য খচিত স্বাধীন পতাকা। তিনি নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শ ধারণ করে স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

শিরীন শারমিন বলেন, ‘৭ মার্চের ভাষণ যেমন আমাদের অহংকার তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের জন্য গৌরবের।’ 

এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার "মাদার অব হিউম্যানিটি" খেতাবে ভূষিত হওয়া ও পিপলস এন্ড পলিটিক্সের ঘোষিত "সততা ও কর্মক্ষম" প্রধানমন্ত্রীর তালিকায় স্থান করে নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন তিনি।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি রেবেকা মমিন এমপি,জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম অ্যাডভোকেট এমপি, বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমীর চেয়ারম্যান সেলিনা হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম, বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা ।


মন্তব্য