kalerkantho


রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্মতিপত্র জনসম্মুখে আনা হয়নি : ফখরুল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১৭:১৩



রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের সম্মতিপত্র জনসম্মুখে আনা হয়নি : ফখরুল

ছবি : ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফাইল ফটো

মিয়ামারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সম্মতিপত্র জনসম্মুখে আনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। হওয়া সম্মতিপত্রের বিস্তারিত তথ্য সরকার প্রকাশ না করায় হতাশা ও সংশয় প্রকাশ করেছে বিএনপি।

ফলে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি কতটা সফল ও নিরাপদ হবে সে বিষয়ে হতাশা ও শংসয় প্রকাশ করেছে বিএনপি। সেই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে করা ওই সমঝোতার বিস্তারিত প্রকাশের দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব।

আজ শুক্রবার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছোট ভাই আহমেদ কামালের জানাজায় যাওয়ার আগে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।  

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ওই চুক্তির মূল বিষয়গুলো আমরা জানি না। এগুলো জনসম্মুখে আনা হয়নি। এই চুক্তির ফলে রোহিঙ্গারা কতটুকু আস্থা ফিরে পাবেন যে তারা সেই জায়গায় আবার ফিরে যাবেন? সে জায়গায় তাদের নিরাপত্তা থাকবে কিনা, আবার তারা সেই গণহত্যার শিকার হবে কিনা- এ বিষয়গুলো এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই জানি না।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এখনও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে। অত্যাচার করছে।

প্রতিদিনই মিয়ানমার থেকে বহু লোক বাংলাদেশে আসছে। এই অত্যাচার-নির্যাতন-গণহত্যা বন্ধ না করে আবার সেখানে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করার মানে হলো তাদের আরেকটি নরকের মধ্যে তাদের ঠেলে দেওয়া।  

আমরা আশা করবো, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তিতে রোহিঙ্গাদের সত্যিকার অর্থে নাগরিকের মর্যাদা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। অন্যথায় এটা একেবারেই ব্যর্থ একটি চুক্তি হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি, যোগ করেন ফখরুল।  

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে গত বৃহস্পতিবার নেপিদোতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলরের দপ্তরের মন্ত্রী কিয়া তিন্ত সোয়ে একটি সম্মতিপত্রে (অ্যারেঞ্জমেন্ট) সই করেন। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তিন সপ্তাহের মধ্যে একটি ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করে দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করা এবং এজন্য যত দ্রুত সম্ভব একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে সম্মতিপত্রে। তবে কোন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের জাতীয়তার পরিচয় নির্ধারণ করা হবে, কতদিনের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে, তাতে কী কী শর্ত থাকবে- সেসব বিষয়ে কোনো তথ্য বাংলাদেশ বা মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।


মন্তব্য