kalerkantho


নার্স নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁসে গ্রেপ্তার দুজনের রিমান্ড

আদালত প্রতিবেদক    

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ১৮:৩৯



নার্স নিয়োগে প্রশ্ন ফাঁসে গ্রেপ্তার দুজনের রিমান্ড

বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) নার্স নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএনএ) নবনির্বাচিত ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকসহ দুইজনকে তিন দিন করে রিমান্ডের অনুমতি পেয়েছে সিআইডি।

এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম বিএনএ'র ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) শাখার নির্বাচিত ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও আরিফুল ইসলাম স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের (স্বানাপ আনিস গ্রুপ) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একজন ঢামেক জরুরি বিভাগে কর্মরত অন্যজন মেডিসিন ওয়ার্ডে।

ফাঁস হওয়া ১১ সেট প্রশ্নসহ রাজধানীর শাহবাগের স্মৃতি চিরন্তনের পূর্বপাশ থেকে গত বৃস্পতিবার গ্রেপ্তারের পরদিন আদালতে রিমান্ড চেয়ে হাজির করা হয় তাদেরকে। সঙ্গত কারণে ওইদিন শুনানি গ্রহণ না করে আজ সোমবার দিন ধার্য করা হয়। পরে পিডাব্লিউ ইস্যু করে আসামি পাঠিয়ে দেওয়া হয় করাগারে।

আজ সোমবার রিমান্ড শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কারাগার থেকে দুই আসামি মো. আরিফুল ইসলাম ও মো. সাইফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়।

ঢাকা মহানগর হাকিম এ কে এম মঈন উদ্দিন সিদ্দিকী শুনানি শেষে তাদের তিন দিন করে হোফাজতে নেওয়ার অনুমতি দেন। তথ্য উদঘাটনের লক্ষ্যে হেফাজতে থাকা সময়ের মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। প্রশ্ন ফাঁসে  জড়িতদের তথ্য জানতে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে সাত দিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগের (উত্তর) উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি) শেখ নাজমুল আলমের নির্দেশনায় অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. শাহজাহানের (পিপিএম) তত্ত্বাবধানে ও জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটওয়ারীর নেতৃত্বে মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও প্রতিরোধ টিমের অভিযানে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর রাজধানীর শাহবাগ থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

গত ৬ নভেম্বর রাজধানীর ১০টি কেন্দ্রে মোট চার হাজার ৬০০ সিনিয়র স্টাফ নার্স (ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি তিন হাজার ৬০০ ও মিডওয়াইফ এক হাজার) নিয়োগ পরীক্ষার বিপরীতে ১৬ হাজার ৯০০ জন পরীক্ষা দেয়।

পিএসসি পরীক্ষায় শিউলি, হাসনাহেনা, রজনীগন্ধা, কামিনী নামে চার সেট প্রশ্নপত্র ছাপানো হয়। পরীক্ষার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়।

একাধিক পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, পরীক্ষা শুরুর আগে ফেসবুক, ভাইবার ও হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র পাওয়া গেছে। হলে গিয়ে দেখেন ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই পরীক্ষা হচ্ছে।

আসামিদের গ্রেপ্তারের পর তাদের দেওয়া তথ্যমতে ওই পরীক্ষার আগে ও পরে বিভিন্ন নার্স নেতা এবং পিএসসির কয়েকজন মাঝারি ও নিম্নপদস্থ কর্মকর্তারও মোবাইল কললিস্ট পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   


মন্তব্য