kalerkantho


সংসদে প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী

মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় করতে সব ব্যাংকে ক্যামেরা চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ২২:৫০



মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় করতে সব ব্যাংকে ক্যামেরা চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ফাইল ছবি

প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ক্যামেরা বসানোর নির্দেশনা দিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে আজ মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ তথ্য জানান।

তিনি আরো জানান, দেশে মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় করতে সরকারের ‘নিরন্তর প্রচেষ্টা’ অব্যাহত রয়েছে।

সংরক্ষিত মহিলা আসনের ওয়ার্কার্স পার্টির সংসদ সদস্য হাজেরা খাতুনের এক প্রশ্নের জবাবে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা প্রদান করেছে যে, ব্যাংক স্থাপনার অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংক শাখার প্রবেশ পথে, শাখার অভ্যন্তরে, শাখার বাহিরের চতুর্দিকে এবং সকল প্রকার আইটির রুমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিসিটিভি/ আইপি ক্যামেরা/স্পাই ক্যামেরা/ ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডার (ডিভিআর) স্থাপন করতে হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য সরকারি ব্যাংকসহ দেশের অন্যান্য সকল তফসিলি ব্যাংক নিজেরা পরিকল্পনা মাফিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ’

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ নাটোরের সিংড়া উপজেলা সদরে সোনালী ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার থেকে এক শিক্ষকের কাছ থেকে ৮৪ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এক অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের টাকা জমা দিতে ব্যাংকে এসেছিলেন ওই শিক্ষক। ওই ব্যাংকে কোনো সিসি ক্যামেরাও ছিল না।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মোবাইল ফাইন্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) তথা মোবাইল ব্যাংকিংকে জনপ্রিয় ও সম্প্রসারণ করার জন্য সরকারের নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের চার্জ সাধারণভাবে এজেন্টের অংশ, মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রোভাইডারের ইউএসএসডি মূল্য এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অংশ-এ তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমানে ইউএসএসডি মূল্য এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের অংশ কমানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।

এ দুটি চার্জ কমানো সম্ভব হলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার চার্জ কমে আসবে বলে আশা করা যায়।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নারী উদ্যোক্তাদের ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে গত আট বছরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। সকল ব্যাংক ও অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট বিতরণকৃত এমএসই ঋণের ন্যূনতম ১০ শতাংশ নারীদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে, যা ২০২১ সাল নাগাদ ১৫ শতাংশে উন্নীত হবে।

একই দলের মামুনুর রশীদ কিরণের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, চলতি অর্থ-বছরের অক্টোবর পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম চার মাসে প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রেরিত রেমিটেন্সের পরিমাণ চার হাজার ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিণ ডলার; যা গত বছরের একই সময়ের তূলনায় ছয় দশমিক নয় শতাংশ বেশি।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য মুহা. গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মুহিত বলেন, ‘বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশের অব্যাহত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভারসাম্য বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দিন বদলের সনদ রচনা করেছেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথনকশা সে সদনে প্রথিত হয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ গঠনে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটি ধারণ করে সরকার সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। ’

অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সরকার বেশকিছু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ, যা বিগত তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তিনি বলেন, ‘মাথাপিছু আয়ের উচ্চতর প্রবৃদ্ধির ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এমডিজি’র ন্যায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসমূহ অর্জনেও আমরা সক্ষম হবো।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে। ’ তিনি আরো জানান, ‘আমাদের রাজস্ব এবং মুদ্রানীতি হবে একে অপরের পরিপূরক। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক উচ্চ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মুদ্রানীতি প্রণয়ন করে থাকে। কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য মুদ্রানীতিতে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত থাকবে। ’

আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, ভোক্তাবান্ধব ও রাজস্ব বান্ধব ডিজিটাল এনবিআর গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক বিভিন্ন উদ্ভাবনীমূলক ও কর-বান্ধব পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে। সহজ আয়কর পরিগণনার জন্য ই-ক্যালকুলেটর ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি ও ডিজিটাল এনবিআর গড়ে তোলার লক্ষ্যে মূল সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর আওতায় অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মূল্য সংযোজন কর বিষয়ে অধিকতর সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ই-লারর্নিং ও ভ্যাট হেল্প লাইন চালু করা হয়েছে। ভ্যাট বিষয়ক যে কোন প্রশ্নের তাৎক্ষণিক জবাব প্রদানের জন্য কল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যার নম্বর ১৬৫৫৫।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা সৃষ্টি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বিগত বছরগুলোতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। ঋণের এ প্রবৃদ্ধি দেশের বেসরকারি খাতের উৎপাদনমুখী উদ্যোগসমূহ বাস্তবায়ন এবং কাঙ্খিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে বিগত বছরগুলেতে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ (নীট) গ্রহণ হ্রাস পেয়েছে। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণ না করে পরিশোধ করেছে তিন হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা, যা বাজেটে ঘোষিত ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ২৮ হাজার ২০৩ কোটি টাকার তুলনায় কম হারে ঋণ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ প্রশমন সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরো জানান, ব্যাংকগুলোর ঋণযোগ্য তহবিল বৃদ্ধি পাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধির ফলে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। কাজেই সরকারের ঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি বিনিয়োগে ঋণ প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে প্রতীয়মান হয়।


মন্তব্য