kalerkantho


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসছেন আজ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ অক্টোবর, ২০১৭ ০৯:০৬



ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকায় আসছেন আজ

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ আজ রবিবার দুপুরে ঢাকায় আসছেন। দুপুর ২টায় তিনি বিশেষ বিমানযোগে ঢাকার কুর্মিটোলায় বঙ্গবন্ধু বিমানঘাঁটিতে এসে পৌঁছালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী তাকে স্বাগত জানাবেন।

আজ বিকেল ৪টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ পরামর্শক কমিটির (জেসিসি) বৈঠকে যোগ দেবেন সুষমা স্বরাজ।  আর এই বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী। জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সকল ইস্যু নিয়ে আলোচনা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ পর্যালোচনা এবং সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হবে। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও সুষমার সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এরপর সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন সুষমা স্বরাজ। রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিমন্ত্রণে নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।  

এ ছাড়াও আজ রাতে জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এবং আগামীকাল সকালে বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি।  তা ছাড়াও পরদিন সোমবার সকালে তিনি বারিধারায় ভারতীয় হাইকমিশনে ভারত সরকারের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ১৫টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপরে দুপুরে বিশেষ বিমানযোগ নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন সুষমা স্বরাজ।

কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছে। বাংলাদেশ চায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যে এসব রোহিঙ্গা নিরাপদে স্বদেশে ফিরে যাক। বিশ্ব সম্প্রদায়ও বাংলাদেশের পাশে থেকে এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। মিয়ানমারের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নিকট প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে ভারতকেও এ প্রক্রিয়ায় দেখতে চায় বাংলাদেশ। ভারত রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। দফায় দফায় ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। এখন বাংলাদেশের প্রত্যাশা ভারত সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখুক।

সূত্র আরো জানায়, জেসিসির বৈঠকে অভিন্ন সন্ত্রাস ও উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে যৌথ দৃঢ় পদক্ষেপ তথা নিরাপত্তা সহযোগিতা, জ্বালানি, বাণিজ্য, সীমান্ত যোগাযোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, কানেকটিভিটিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে। ভারত গত বছরে বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়েছে। শিপিং, বিদ্যুৎ, রেল, যোগাযোগ অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে এ ঋণ ব্যবহৃত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রথমবার জেসিসি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এবার জেসিসির চতুর্থ বৈঠক ঢাকায় বসছে।


মন্তব্য