kalerkantho


ভেজাল প্যারাসিটামল পানে ২৮ শিশুর মৃত্যু

ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০৪:১২



ওষুধ প্রশাসনের কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা হাইকোর্টের

ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ পান করে ২৮ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা পরিচালনায় অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামের দায়িত্ব পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্বাস্থ্য সচিবের দেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্ত করার পরও তিনি কিভাবে চাকরিতে বহাল রয়েছেন তার ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।  

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ৭ দিনের মধ্যে এর ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। আদালত ২৬ অক্টোবর পরবর্তী আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।  

মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) করা আবেদনে এ আদেশ দেওয়া হয়। এইচআরপিবি’র পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপড়্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।  

গত ২৪ আগস্ট স্বাস্থ্য সচিব হাইকোর্টে হাজির হয়ে আদালতকে জানান, মামলা পরিচালনায় অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আলতাফ হোসেন ও সহকারী পরিচালক মো. শফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে মো. শফিকুল ইসলাম স্বাস্থ্য সচিবের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন।

ট্রাইব্যুনাল স্বাস্থ্য সচিবের আদেশ স্থগিত করে।

এরপর এইচআরপিবির আইনজীবী মনজিল মোরসেদ গতকাল আদালতকে জানান, হাইকোর্টের বিচারিক প্রক্রিয়া গোপন করে শফিকুল ইসলাম প্রশাসনিক আপিল ট্রাইব্যুনালে গেছেন ও আদেশ এনে নিজ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এ অবস্থায় হাইকোর্ট উল্লেখিত আদেশ দেন।

এর আগে হাইকোর্ট গত ১৬ মার্চ এক আদেশে ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ পান করে ২৮ শিশু মৃত্যুর ঘটনার মামলা পরিচালনায় অযোগ্যতা ও অদক্ষতার কারণে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওই দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চান হাইকোর্ট। এ অবস্থায় গত ১১ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাইকোর্টে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। এ প্রতিবেদনে ওই দুই কর্মকর্তার অবহেলার প্রমান পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত ৩ আগস্ট হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা স্বাস্থ্য সচিবের কাছে জানতে চান।

এ আদেশের পর স্বাস্থ্য সচিব গত ২১ আগস্ট আদালতে প্রতিবেদন দিয়ে বলেন, তাদের (সংশ্লিষ্ট দুই কর্মকর্তা) সতর্ক করা হয়েছে। এ অবস্থায় এইচআরপিবির আবেদনে ২১ আগস্ট স্বাস্থ্য সচিবকে তলব করেন আদালত। এনির্দেশে ২৪ আগস্ট সচিব আদালতে হাজির হয়ে জানান, সংশ্লিস্ট দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।  


মন্তব্য