kalerkantho


রাজধানীতে দোকানে ঢুকে নারী বিক্রয়কর্মীকে জবাই

স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়াই কাল হলো টুম্পার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০১:৫৩



স্বামীকে ডিভোর্স দেওয়াই কাল হলো টুম্পার

প্রতীকী ছবি

আগে একটি বিয়ে করেছিল সবুজ। সেই বিয়ের কথা গোপন করে বিয়ে করেছিলেন জেসমিন আক্তার টুম্পাকে।

৫-৬ বছর পর আগের বিয়ের কথা জেনে যাওয়ার কারনে টুম্পা ডিভোর্স দেয় সবুজকে। সবুজের সংসার ছেড়ে চলে যায় বাবার সংসারে। তার বাবার বাড়িতে গিয়েও সবুজ টুম্পাকে হুমকি ধমকি দিতো।  

অবশেষে তাকে ঢাকার সাভার থেকে গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের কাঠালী গ্রামে পাঠানো হয়। তাতেও শান্তি মিলেনি। গ্রামের বাড়িতে গিয়েও টুম্পাকে হুমকি ধমকি দিচ্ছিল সবুজ। কয়েক মাস আগে টুম্পা সাভারে ফিরে গত কোরবানীর ঈদের ৮/৯ দিন আগে চাকরি নেয় মোহাম্মদপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডের ‘নব্য’ নামের একটি বুটিক শপে। গত রবিবার সেই দোকানটিতে গিয়ে সবুজ টুম্পাকে জবাই করেছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় টুম্পার বাবা আবুল বাশার বাদী হয়ে গতকাল সোমবার মোহাম্মদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় সবুজকে প্রধান আসামি ও তার বোন এবং ভাগ্নিকে আসামি করা হয়েছে।   

পুলিশ সূত্র জানায়, গত রবিবার সকাল থেকে মোহাম্মদপুরের রাজিয়া সুলতানা রোডের ‘নব্য’ নামের একটি বুটিকের দোকানে কাজ করছিলেন জেসমিন আক্তার টুম্পা ও ফারিয়া নামের দুই বিক্রয় কর্মী। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই দোকানে যায় তার স্বামী। গিয়েই টুম্পার সঙ্গে ঝগড়া শুরু করে। এক পর্যায়ে তার স্বামী পকেট থেকে চাকু বের করে টুম্পাকে আঘাত করতে থাকে। এ অবস্থা দেখে ফারিয়া ভয়ে দোকান থেকে চলে যান। পরে ফিরে দেখেন টুম্পাকে জবাই করে পালিয়ে গেছে তার স্বামী।  

টুম্পার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন টুম্পা। বাবা মায়ের অমতে সবুজের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন। এর পর থেকে তারা সাভারের বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন। পরিবারের অমতে বিয়ে করার কারনে টুম্পার সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের তেমন যোগাযোগ ছিল না। কয়েক মাস আগে টুম্পা সবুজের আগের স্ত্রীর কথা জানতে পেরে তাকে ডিভোর্স দিয়ে সাভারে থাকা বাবার সংসারে চলে যায়।  

সেখানে গিয়ে হুমকি দিতে থাকে সবুজ। অবশেষে উপায়ন্তর না দেখে তাকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দেন তার বাবা। সেখান গিয়েও হুমকি ধমকি দেওয়ার কারনে টুম্পা ঢাকার সভারে চলে আসেন। ডিভোর্সকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সবুজও একটি দোকানে কাজ করতেন। সবুজের বাড়ি পিরোজপুরের মঠ বাড়িয়ায়। তার লাশ দাফনের জন্য গতকাল ঢাকা মেডিকেলের মর্গ থেকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।  

 

 


মন্তব্য