kalerkantho


ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব, রাজি হলে সিনেমায় সুযোগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০৯:১২



ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব, রাজি হলে সিনেমায় সুযোগ

ছবিও-সংগৃহীত

নাটকের প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেওয়া ছাত্রীদের কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পশ্চিমবঙ্গের নাট্য ও চিত্র পরিচালক প্রেমাংশু রায়।

অন্তত ফেসবুক লাইভ বলছে সেকথা। যদিও ঘটনা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি কেউই। থানাতেও কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি ছাত্রীরা। ওই ফেসবুক লাইভটি অভিনয়ের অংশ কি না সে বিষেয়ও নিশ্চিত করেননি কেউ।

তবে, রাজ্য সরকারের উদ্যেগে ওই নাট্য কর্মশালায় যদি অংশগ্রহণকারীদের কুপ্রস্তাব দেওয়া হয়, তবে তা যথেষ্ট চিন্তার বিষয় বলে মনে করছেন নাট্য জগতের একাংশ। যদিও নিজের সম্পর্কে ওঠা কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রেমাংশু রায়। এদিকে এই ঘটনার পর প্রেমাংশু রায়কে কর্মশালার প্রশিক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের পক্ষ থেকে সব জেলায় নির্দেশ পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে মিনার্ভার সঙ্গে প্রেমাংশু রায়ের আর কোনও যোগ নেই।

রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের শাখা মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা গোষ্ঠীর উদ্যোগে দুই বর্ধমান ও বীরভূম জেলার ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে চলছিল নাট্য প্রশিক্ষণ শিবির।

গত ৮ অক্টোবর থেকে চলা ওয়ার্কশপে ১৪ জন ছাত্র ও ৭ জন ছাত্রী অংশ নেন। শহরের বর্ধমান রবীন্দ্রভবনে ছাত্রছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। মিনার্ভার পক্ষ থেকে নাট্য প্রশিক্ষক হিসাবে প্রেমাংশু রায় প্রশিক্ষণশালায় অংশ নেন।

ফেসবুক লাইভে ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ আনেন, প্রেমাংশুবাবু মদ্যপ অবস্থায় এক নারী অভিনেত্রীকে ডেকে অশোভন কথাবার্তা থেকে কুপ্রস্তাব দেন। কর্মশালায় প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে আলাদা আলাদা করে ক্লাস নেওয়ার সময় বেশকিছুজনকে কুপ্রস্তাব দেন প্রেমাংশু রায়। বলেন, প্রস্তাবে রাজি হলে তাঁদেরকে সিনেমা সহ অন্য জায়গায় সুযোগ দেওয়া হবে।

এমনকী, এই প্রস্তাবের কথা ফাঁস করে দিলে ক্যারিয়ার নষ্ট করে দেওয়ার হুমকি দেন পরিচালক। আরও অভিযোগ ছাত্রছাত্রীদের। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে কিছু না বললেও গতকাল ফের একই ঘটনা ঘটে। এরপর আর চুপ থাকতে পারেননি ছাত্রছাত্রীরা। ফেসবুক লাইভে এসে গোটা ঘটনা খুলে বলেন তাঁরা।

বিষয়টি জানাজানি হতেই গতকাল সকালে বর্ধমান ভবন ছেড়ে কলকাতা চলে যান প্রেমাংশু রায়। বর্ধমান ভবনে যায় বর্ধমান থানার পুলিশ। খবর যায় জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা কুশল চক্রবর্তীর কাছেও। তিনিও সেখানে গিয়ে ছাত্রছাত্রী ও পুলিশকে নিয়ে আলোচনায় বসেন। এরপর রাতে পোস্ট করা ফেসবুক লাইভ ভিডিও তড়িঘড়ি মুছে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশেও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।    

বিষয়টি নিয়ে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা কুশল চক্রবর্তী বলেন, আমি ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা আমাকে জানিয়েছে ওয়ার্কশপে একটা ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটেছিল।

প্রশ্ন উঠেছে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা থেকে ফেসবুকে কেন এতবড় অভিযোগ আনলেন ছাত্রছাত্রীরা। ফেসবুকের ভিডিওই বা মুছে দেওয়া হলো কেন?

হেমন্ত চক্রবর্তী নামে কর্মশালায় অংশ নেওয়া এক ছাত্র বলেন, আমরা ফেসবুকে যা বলেছি, সেটাই আমাদের অভিযোগ। গত কদিন ধরে আমরা প্রেমাংশু রায়ের কাছ থেকে যে আচার আচরণ পেয়ে আসছিলাম, তাতে আমরা সবাই খুবই কষ্টে ছিলাম। একটা সময় পরে আমরা প্রতিবাদ করতে বাধ্য হয়েছিলাম। প্রত্যেকেই কথা বলার মতো অবস্থায় নেই। কেউকেউ এটাকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছিল। তাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে মিনার্ভা থিয়েটার কর্তৃপক্ষের কোনও ভূমিকা নেই। তাদের সঙ্গে আলোচনা করেই ভিডিও তুলে নেওয়া হয়। তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।

এদিকে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফেসবুক পোস্ট করে পরিচালক জানান,  ঘরে ডাকার ব্যাপারটা সত্য। কিন্তু, ফেসবুক লাইভে যেভাবে বলা হয়েছে সেটা ভুল।


মন্তব্য