kalerkantho


জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বিল পাসের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ২১:৫৩



জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বিল পাসের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে 'বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বিল-২০১৭' পাসের সুপারিশ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কমিটির বৈঠকে বিলটি পাসের সুপারিশ করে সংসদের আগামী অধিবেশনে প্রতিবেদন উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী। বৈঠকে কমিটি সদস্য আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী ও রহিম উল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিলের উপর বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের দেওয়া মতামতের ভিত্তিতে বিলটি চূড়ান্ত করা হয়। গত ১০ জুলাই সংসদে বিলটি উত্থাপন করা হয়। বিলটি উত্থাপন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। বিলটি পাসের পর চট্টগ্রাম অঞ্চলের জাহাজ ভাঙা শিল্প নতুন এই আইনের আওতায় আসবে। আইনের আলোকে জাহাজ ভাঙার জন্য একটি আলাদা জোনও করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। স্টিল মিলের কাঁচামালের চাহিদার সিংহভাগ এই শিল্প থেকে মেটানো হয়।

এ শিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ সৃষ্টি, উপকূলীয় অঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশ সুসংহত করতে বিপদজনক বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনাসহ এ শিল্পটি একটি আইনি কাঠামোর মধ্যে দিয়ে পরিচালনা করতে এই বিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

বিলের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সরকারের অনুমতি ছাড়া ইয়ার্ড স্থাপন করলে অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড বা ন্যূনতম ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একইভাবে বিলের ২২ ধরার বিধান অনুযায়ী, অনাপত্তি সনদ ছাড়া জাহাজ আমদানি এবং ছাড়পত্র ছাড়া জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করলে (ভাঙলে) দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে।

বিলে আরো বলা হয়েছে, আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কেউ শিপইয়ার্ড পরিচালনা করলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। আর জাল সনদ দিয়ে কোনো সুবিধা নিলে কমপক্ষে ৫ লাখ ও সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে, জাহাজ ভাঙার কার্যক্রম দেখাশোনা করতে এই আইনের অধীনে একটি বোর্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় মনোনীত একজন অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা এই বোর্ডের চেয়ারম্যান হবেন। এ ছাড়া এই বোর্ডে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে থাকবেন সরকারের নিয়োগকৃত একজন মহাপরিচালক। যিনি বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হবেন বলেন বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।


মন্তব্য