kalerkantho


শারদীয় দুর্গোৎসব: সোমবার বোধন মণ্ডপে মণ্ডপে সাজ সাজ রব

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২০:১৫



শারদীয় দুর্গোৎসব: সোমবার বোধন মণ্ডপে মণ্ডপে সাজ সাজ রব

ফাইল ছবি

সোমবার সায়ংকালে (সন্ধ্যায়) দেবী দুর্গার বোধন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোত্সব।

এদিকে হিন্দ্র ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উত্সব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চারিদিকে সাজ সাজ রব। রাজধানীর মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

পঞ্জিকা অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে বাঙালির অন্যতম উত্সব দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। আজ হবে বোধন। এ উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে বিকেলে ৪টায় পূজা শুরু হবে। আগামী মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত হবে দশভুজাদেবী দুর্গার ষষ্ঠী বিহিত পূজা। আর সায়ংকালে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস। ঢাক আর কাঁসর ঘণ্টার শব্দে, ধূপের ধোঁয়া, উলুধ্বনির সঙ্গে ভক্তিমন্ত্রে উচ্চারিত হবে 'যা দেবী সর্বভূতেষু, মাতৃরূপেণন সংস্থিতা, নমসত্মস্যৈ নমসত্মস্যৈ নমসত্মস্যৈ নমোঃ নমোঃ'। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে জাগরিত হবে বিশ্ব থেকে অশুভকে বিদায় দেয়ার পণ।

পুরাণ মতে, রাজা সুরথ প্রথম দেবী দুর্গার আরাধনা শুরু করেন। বসন্তকালে তিনি এই পূজা আয়োজন করেছিলেন বলে দেবীর এ পূজাকে বাসন্তী পূজা বলা হয়। কিন্তু রাজা রাবণের হাত থেকে স্ত্রী সীতাকে উদ্ধারের জন্য রাজা দশরথের পুত্র রামচন্দ্র শরত্কালে দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন। তাই শরত্কালের এই পূজাকে হিন্দু মতে অকাল বোধনও বলা হয়।  
ভক্তরা মনে করেন, শারদীয় এই উত্সবের মাধ্যমে কন্যাস্থানীয় দেবী সপরিবারে তিন দিনের জন্য পিতৃগৃহে আগমন করেন।

দেবীর দশ হাত। দেবীকে আমরা দেখি যুদ্ধের সাজে। যুদ্ধের সময় দেবীর ডানদিকের পাঁচটি বাহুতে উপর থেকে নিচে থাকে ত্রিশূল, খড়গ, চক্র, তিক্ষ বান ও শক্তি নামক অস্ত্র। বাম দিকের পাঁচটি বাহুতে নিচ থেকে উপরে খেটক (ঢাল), ধনুক, নাগপাশ, আঙ্কুশ, ঘণ্টা। অস্ত্র দিয়ে তিনি যুদ্ধ করে দুষ্টের দমন আর শিষ্ঠের পালন করেন। দেবী যখন মমতাময়ী মায়ের রূপ নেন তখন তার হাতে থাকে কল্যাণের প্রতীক পদ্ম, শঙ্খসহ দশটি অস্ত্র। দেবীর গায়ের রং অতসী ফুলেরমতো উজ্জ্বল। পূর্ণিমার চাঁদের মতো তার মুখ। তিনি ত্রিনয়না। মাথার একপাশে বাঁকা চাঁদ। সিংহ তার বাহন। দেবীর ডানে ধনদাত্রী লক্ষ্মী, পাশে সিদ্ধিদাতা গণেশ। দেবীর বামপাশে বিদ্যাদায়িনী সরস্বতী এবং তার পাশে শৌর্য-বীর্যের প্রতীক কার্তিক।

সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন এবং স্বর্গালোকে বিদায় নেবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। যার ফল হচ্ছে রোগ, শোক, হানাহানি-মারামারি বাড়বে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ বলেন, ফলাফল যাই হোক মা মঙ্গলময়ী, আনন্দময়ী। তিনি জগতের কল্যাণ করেন। তিনি সন্তানের কল্যাণই করবেন।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, এবছর সারা দেশে ৩০ হাজার ৮১টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোত্সব অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর ২৯ হাজার ৩৯৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর রাজধানীতে ৩২৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবছর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩১টি।
 
ইতিমধ্যে অনেক মণ্ডপে শেষে হয়েছে প্রতিমা তৈরির কাজ। আবার অনেক মণ্ডপে চলছে প্রতিমাগুলো রং করার কাজ। তুলির আঁচড়ে সুন্দর করে তোলা হচ্ছে দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও মহিষাসুরের প্রতিমা। পূজামণ্ডপকে পূর্ণাঙ্গ শৈল্পিক রূপ করে ভক্ত-দর্শনার্থীদের কাছে দৃষ্টিনন্দন করা কারুশিল্পীদেরও এখন ব্যস্ত সময় কাটছে। পূজার প্রস্তুতির এ শেষ মুহূর্তে এখন যেন দম ফেলার ফুরসত নেই শিল্পীদের।
 
দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে ব্যসত্ম সময় পার করছেন মৃত্শিল্পী, ডেকোরেটর এবং হিন্দুধর্মালম্বী লোকজন। পূজামন্ডপকে ঘিরে চলছে মঞ্চ, প্যান্ডেল, তোরণ নির্মাণ ও আলোকসজ্জার কাজ। আর ভক্তদের মাঝেও এখন চলছে উত্সবের আমেজ। ঘুরে ঘুরে দেখছেন রাজধানীর পূজামন্ডপগুলো। উত্সবের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই এ সমপ্রদায়ের লোকজনের মধ্যে বিরাজ করছে দেবীকে বরণের প্রস্তুতি।

ঢাকায় এবার ছয়টি স্থানে প্রথমবারের মতো পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এগুলো হচ্ছে পল্টন বধির স্কুল, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার বিজি প্রেস ও বেগুনবাড়ি, ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকা ও বারিধারা ডিওএইচএস। এবার পুলিশ প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ মনে করে ছয়টি মন্দির ও মণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখছে। এগুলো হচ্ছে ঢাকেশ্বরী মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, বনানী, কলাবাগান, বসুন্ধরা ও রমনা কালীমন্দির।

মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায় বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পূজার সংখ্যা বেশি। পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে আমাদের দফায় দফায় বৈঠক চলছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ এবং আনসার দিতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রতি মণ্ডপে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক রাখা হবে। তাদের কার্ড দেবে মহানগর পূজা কমিটি।


মন্তব্য