kalerkantho


মানিক মিয়া এভিনিউ মাসে এক দিন গাড়িমুক্ত থাকবে

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১৭:১১



মানিক মিয়া এভিনিউ মাসে এক দিন গাড়িমুক্ত থাকবে

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের সড়ক মানিক মিয়া এভিনিউ মাসে অন্তত একটি দিন গাড়িমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার সকালে 'বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস'র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এই ঘোষণা দেন তিনি।

এ সময় তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, "এই ইস্যুতে সো কলড জাতীয় ঐক্য ডেকে লিভ সার্ভিস (বক্তৃতা সর্বস্ব) দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

দিবসটি উপলক্ষে যান্ত্রিক যানবাহন বন্ধ করে সকাল ৯ৱটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত মানিক মিয়া এভিনিউয়ে (সংসদ ভবনের সামনের সড়ক) নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা, সাইকেল শোভাযাত্রা, ঘুড়ি উড়ানো, বিভিন্ন খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমে জাতীয় সংগীত ও পরে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্টের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মারুফ হোসেনের পরিচালনায় বক্তব্য দেন  সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব শফিকুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই'র চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, ইউএনডিপি'র কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী, পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, বাপার মিহির বিশ্বাস প্রমুখ।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় সেতুমন্ত্রী মাসের প্রথম শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেন, "ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস আমরা কাগজে লিখলাম, সুন্দর সুন্দর বক্তব্য দিলাম, কিন্তু বাস্তবে কিছু না করা গেলে এসব কথা বলে লাভ নেই। আমাদের কারমুক্ত দিবসের যথার্থতা উপলব্ধি করতে হবে। " তিনি বলেন, "যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছি তা ২০৩০ সালের মধ্যে যদি পূরণ করতে চাই, তাহলে অবশ্যই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কাজেই এখনই যদি আমরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ না করি তাহলে শুধু সড়কের প্রসার ঘটিয়ে কোনও সুবিধা পাওয়া যবে না।

"

রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "এই ইস্যুতে সো কলড জাতীয় ঐক্য ডেকে লিভ সার্ভিস (বক্তৃতা সর্বস্ব) দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি। শুধু সরকারের সমালোচনা করলেই কি জাতীয় ঐক্য হয়ে যায়? জাতীয় ঐক্য কী সেটা তাদের মুখে আছে, না মনে- তা আমি জানতে চাই। " তিনি বলেন, "আমি তো ওখান থেকে এলাম। তারা (বিএনপি নেতাদের) রোহিঙ্গাদের পাশে নেই। তারা যা করছে তা হলো দায়সারা। শুধু লোক দেখানো একটা প্রতারণা। তাদের মুখের কথা আর মনের কথা এক নয়। "

ওবায়দুল কাদের বলেন, "সারা দুনিয়া বাংলাদেশ এবং শেখ হাসিনার মানবিক ও সাহসিক ভূমিকার প্রসংশা করছে। বাংলাদেশের জনগণ বিশ্বের জনগণ বর্তমান সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ঠিক তখন বিএনপি ঢাকায় বসে টেলিভিশনের ক্যামেরার সামনে লিভ সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। "  তিনি বলেন, "রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান করে বিশ্ব দরবারে জনমত গড়ে তুলে তাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে আমরা আশা করছি বিশ্বের নামি দামি দেশগুলো মিয়ানমারের এই অমানবিক টর্চারের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হবে। "

অনুষ্ঠানে দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, "ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ভালো না হওয়ায় যানজট আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পবিরবহন পরিকল্পনায় যাতায়াত ব্যয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। " তারা বলেন, "আমাদের পরিকল্পনা শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক। কিছু উন্নয়ন অন্যান্য শহরেও করা উচিত, যা বিকেন্দ্রিকরণে ভূমিকা রাখবে। প্রত্যেক এলাকায় মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে। এতে যাতায়াত চাহিদা কমে যাবে। পাশাপাশি যানজটও কমে যাবে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবস্থাকে গণমুখী করার দাবি জানান বক্তারা।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ২০০৬ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। বিগত বছরগুলোতে বেসরকারি উদ্যোগে পালিত হলেও এবার দ্বিতীয়বারের মতো ঢাকা সড়ক পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং সড়ক ও জনপদ বিভাগসহ সরকারি ও বেসরকারি ৪৯টি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়েছে। আগামীতে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ওই অনুষ্ঠানে ঘোষণা দেন সরকারি-বেসরকারি  সংস্থার প্রতিনিধিরা।  


মন্তব্য