kalerkantho


শিশুসহ তিন বোনকে হত্যার হুমকি সন্ত্রাসীদের

রাজধানীতে বাসায় ঢুকে বৃদ্ধাকে হত্যা

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০২:২০



রাজধানীতে বাসায় ঢুকে বৃদ্ধাকে হত্যা

প্রতীকী ছবি

তোর মাকে হত্যা করেছি। এখন তোর মেয়েকে অপহরণ করে হত্যা করব।

তোকেসহ একে একে তোদের সবাইকে হত্যা করব। তোরা কোউই আমার হাত থেকে বাঁচতে পারবি না। বৃদ্ধা ফারিয়া বেগমকে হত্যার পর এভাবে তার তিন মেয়ে ও তাদের সন্তানদেরকেও হত্যার হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসী বাবু ও তার সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীদের হুমকি পেয়ে কয়েকটি পরিবারের সদস্যরা এখন স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেও ভয় পাচ্ছে। তারা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।  

গত শনিবার রাতে বৃদ্ধা ফারিয়া বেগমকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বাবুসহ তার সহযোগিদের আসামি করে মিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। তবে গত দুই দিনেও পুলিশ তাদেরকে ধরতে পারেনি। আর পুলিশ তাদেরকে ধরতে না পারার সুযোগ নিচ্ছে সন্ত্রাসী বাবু ও তার সহযোগিরা।

 

এজাহারভুক্ত আসামি হয়েও দাপটের সঙ্গে টেলিফোনে নিহত ফারিয়া বেগমের তিন মেয়েসহ তাদের সন্তানদেরকেও হত্যার হুমকি দিচ্ছে তারা। ফলে এরা বাসা থেকে বাইরে বের হওয়ার সময় ভয়ে ভয়ে থাকছেন। সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও ভয় পাচ্ছেন। অনেকটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে এই সন্ত্রাসীরা।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর এলাকায় সন্ত্রাসীরা বরাবরই বেপরোয়া। এসব সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হচ্ছে না। এদের কাছে যেমন অবৈধ অস্ত্র আছে। সন্ত্রাসীরা স্থানীয় প্রভাব শালীদের ছত্রছায়ায় চলে বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো তাদের ধরার বিষয়ে তেমন আন্তরিক নয়।  

জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ফারিয়া বেগমকে বাবু নামে একজন হত্যা করেছে বলে পরিবারের কাছ থেকে অভিযোগ পওয়া গেছে। তথ্য যাচাই বাছাই চলছে। বাবুসহ তার সহযোগিদের ধরার চেষ্টা চলছে। ঘটনার পর পরিবারের লোকজনকে আইনি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।  

বাবু সম্পর্কে এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাবু মিরপুর বড় বাগ এলাকায় থাকে। এলাকায় বখাটেপনার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত শনিবার রাতে বড়বাগ এলাকায় মেয়ের বাসায় একা ছিলেন বৃদ্ধা ফারিয়া বেগম (৭০)। এই সুযোগে বাবু ও তার সহযোগিরা ওই বাসায় ঢোকে। এরপর ফারিয়া বেগমকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে।  

জানতে চাইলে ফারিয়া বেগমের মেয়ে রুমা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, তিনি মিরপুর বড়বাগ এলাকার হবি মার্কেটের পূর্ব পাশের ১/১৮ নম্বর চার তলা ভবনের নিচ তলার একটি কক্ষে মেয়ে পিংকিকে নিয়ে থাকেন। সঙ্গে তার মাও থাকতেন। শনিবার সকাল ৭টার দিকে তিনি গার্মেন্টে কাজে চলে যান।  

তখন মেয়ে পিংকি ও তার মা বাসাতেই ছিল। সন্ধ্যায় মেয়ে পিংকি কোচিংয়ে চলে যায়। ওই সময় তার মা ফারিয়া বেগম বাসায় একা ছিল। রাত সোয়া ৮টার দিকে বাসায় ফিরে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় তার মা ফ্লোরে পড়ে আছে। মাথার পেছন দিকে যখম। রক্তে ঘর ভেসে গিছে। শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।  

রুমা বলেন, তারা দারুস সালাম লাল কুটি এলাকার স্থানীয়। অন্তত ২০ বছর ধরে তারা এ এলাকায় আছেন। তারা তিন বোন তিন ভাইয়ের মধ্যে সবাই আলাদা বসবাস করেন। তাদের মা ফারিয়া বেগম একেক সময় একেক সন্তানের বাসায় থাকতেন। ঈদের পর বড় মেয়ে লক্ষ্মীর বাসা থেকে তার বাসায় এসেছিল তার মা।  

রুমা দাবি করেন, তার বড় বোন লক্ষী আগারগাঁও এলাকায় গার্মেন্টের গেঞ্জী বিক্রি করেন। লক্ষ্মীর স্বামী বিদেশ থাকে। লক্ষীকে স্থানীয় বাবু নামে এক সন্ত্রাসী বিভিন্নভাবে উত্তক্ত করত। এ কারনে লক্ষ্মী ঠিকমত বাইরে বের হতে পারত না। বিষয়টি তার মাসহ পরিবারের সবাই জানত।  

এমনকি পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। কিছুদিন আগে তার মা বাবুর সঙ্গে দেখা করে লক্ষ্মীকে উত্তক্ত করতে নিষেধ করে। এই নিয়ে বাবুর সঙ্গে তাদের ভাই বোনদের ঝগড়া হয়। এতে বাবু তাদের মাসহ পরিবারের সবার উপর ক্ষিপ্ত ছিল। এর কারণে বাবুই পরিকল্পিতভাবে তার মাকে হত্যা করে। হত্যার পর বাবু তাদের ভাই বোনদের ফোনে হুমকি দিয়ে বলে, ‘তোগো মায়েরে মাইরা ফালাইছি। এহন তোগো পালা। ’ 

লক্ষ্মী বলেন, হুমকির বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে তারা বিচার চেয়েছেন। সেই সঙ্গে বাবুকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। তবে বাবুকে আসামি করে থানায় মামলা করার পর বাবু আরো ক্ষিপ্ত হয়েছে। গত দুই দিনে বাবু ও তার সহযোগিরা তাদের কয়েক বোনকে মোবাইলে অনেকবার ফোন করে হুমকি ধমকি দিয়ে বলেছে, ‘ তোদের সবাইকে একে একে হত্যা করা হবে। মামলা তোলে নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে।  

রুমা ও লক্ষ্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাবু ও তার সন্ত্রাসীরা তাদেরকে হুমকি দিয়ে সন্তানদেরকেও অপহরণ করে হত্যার কথা বলেছে। এ কারনে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতেও তারা ভয় পাচ্ছেন। পুলিশের উপর ভরসা করে আছেন তারা। বাবুকে ধরতে না পারলে তারা স্বাভাবিকভাবে চলতেও পারছেন না।  

রুমা আক্তার বলেন, তার মেয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরে। সে শনিবার সন্ধ্যা ৬ টার দিকে কোচিংয়ের জন্য বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় বাসায় ছাবিয়া বেগম একা ছিলেন। রুমা আরো জানান, তার বড় বোনের সঙ্গে এক ছেলে সম্পর্ক গড়তে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছিল। এ কারনে তার মাকে খুন করা হয়ে থাকতে পারে। পুলিশ জানায়, কে কি কারনে তাকে হত্যা করেছে তা জানা যায়নি। তবে বাবুকে ধরার চেষ্টা চলছে।  


মন্তব্য