kalerkantho


২৩ হাটে তিন দিন আগে শুরু হবে বেচা-কেনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৪ আগস্ট, ২০১৭ ১১:৫৯



২৩ হাটে তিন দিন আগে শুরু হবে বেচা-কেনা

ঈদের তিন দিন আগে থেকে সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত হাটে পশু ওঠার কথা থাকলেও পশু আসছে সময়ের আগেই। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজধানীর হাটগুলোতে আসতে শুরু করেছে কোরবানির পশু।

তবে বেচা-কেনা শুরু না হলেও চলছে প্রস্তুতি। কোরবানি ঈদের এখনো ৮ দিন বাকি। রাজধানীর কয়েকটি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে ঈদ আমেজ। নানা রংয়ে সাজানো হয়েছে ব্যানার, গেট। ক্রেতা-ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছেন হাটের ইজারাদাররা।

 
জানা গেছে, ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর ২৩ স্থানে বসছে কোরবানির পশুর হাট। এর মধ্যে রয়েছে ২২টি অস্থায়ী ও একটি স্থায়ী হাট। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩টি হাট বসবে। একমাত্র স্থায়ী হাট গাবতলীতেও কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


 
এদিকে প্রতিটি হাটের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে ডিএমপি। কোরবানি পশুর হাটের নিরাপত্তাসংক্রান্ত এক সমন্বয় সভায় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, রাজধানীর পশুর হাটে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
 
গতকাল বুধবার গাবতলী হাট ঘুরে জানা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে এ হাটের পরিধি আরও বাড়ছে। মহানগরীর হাটে এবার ২০ থেকে ২২ লাখ গবাদি পশু ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন। তারা বলেছেন, বন্যা উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রচুর গবাদি পশু ইতিমধ্যে গাবতলী হাটে আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ভারত থেকে আনা গরুও রয়েছে। ঈদুল আজহার দিন যতই ঘনিয়ে আসবে পাল্লা দিয়ে আমদানি তত বাড়বে। একই সঙ্গে পাশের ভুটান, নেপাল ও মিয়ানমার থেকে কোরবানির গবাদি পশু আসবে রাজধানীর হাটে।
 
গাবতলী হাটের একজন ইজারাদার জানান, গত কয়েক দিন থেকেই গাবতলী হাটে গরু-ছাগল-মহিষের পাইকারি বিক্রি শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শতাধিক বেপারি এ হাটে কেনাকাটা করছেন। গাবতলীতে গত সপ্তাহ থেকেই গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া আসতে শুরু করেছে। তবে হাট জমতে আরও ৪-৫ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
 
গাবতলী হাটের ব্যবসায়ী মনির হোসেন বলেন, এবার আগেভাগেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশু আনা শুরু করেছে। তবে এখনো বিক্রি শুরু হয়নি। স্বাভাবিকভাবে গাবতলীর হাটে যেভাবে গরু বেচা-কেনা হয় সেভাবে হচ্ছে।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবার কোরবানির অস্থায়ী পশুর হাট বসাবে ১৩টি স্থানে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে মেরাদিয়া বাজার, উত্তর শাহজাহানপুর-খিলগাঁও রেলগেট বাজারসংলগ্ন মৈত্রী সংঘের মাঠ, ব্রাদার্স ইউনিয়নসংলগ্ন বালুর মাঠ, কমলাপুর স্টেডিয়ামের আশপাশের খালি জায়গা, জিগাতলা হাজারীবাগ মাঠ, রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন জায়গা, আরমানিটোলা খেলার মাঠ ও আশপাশের খালি জায়গা, ধূপখোলা ইস্ট এন্ড ক্লাব মাঠ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন খালি জায়গা, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, শ্যামপুর বালুর মাঠ এবং সাদেক হোসেন খোকা মাঠসংলগ্ন ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল ও সংলগ্ন খালি জায়গা।
 
ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, আমরা এ বছর ১৩টি হাট ইজারা দিয়েছি। হাটে নাগরিকগণ যাতে স্বাভাবিক পরিবেশে কোরবানির পশু কিনতে পারেন সে দিকে লক্ষ রাখা হবে।
 
অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোশেন এবার ৯টি অস্থায়ী পশুর হাট বসাবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কুড়িল ৩০০ ফুট সড়কসংলগ্ন, বসিলা এলাকা, মিরপুর ডিওএইচএস, উত্তরার ১৫ নম্বর সেক্টর, খিলক্ষেত বনরূপা এলাকা, আশিয়ান সিটি, ভাটারার সাঈদনগর, আফতাবনগর ও মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশন।
 
ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমরা এবারের হাটগুলো রাজধানীর জনবহুল এলাকা থেকে একটু দূরে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, যাতে পশুর হাটের জন্য যানজটের সৃষ্টি না হয়। হাটগুলোতে সুস্থ ব্যবস্থাপনা রাখতে ইজারাদারদের দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য