kalerkantho


শোক দিবসের আলোচনা সভায় স্পিকার

'বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনেই জনতা ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা'

নিজস্ব প্রতিবেদক    

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ২০:১৭



'বঙ্গবন্ধুর অঙ্গুলি হেলনেই জনতা ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতা'

"বঙ্গবন্ধুর এক অঙ্গুলির হেলনেই জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার আপামর জনতা রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ছিনিয়ে এনেছিল বাংলার স্বাধীনতার লাল সূর্য। আর তারই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

"

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

স্পিকার বলেন, "আগস্ট মাস শোকের মাস। ১৫ আগস্ট ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছিল। জাতির পিতা ও তার পরিবারের অন্য সদস্যরা নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। হত্যাকাণ্ড থেকে রেহাই পাইনি নারী ও শিশুরা। এ কারণে বাঙালি জাতির জীবনে এটি একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। " তিনি বলেন, "দীর্ঘদিন এ জাতি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য অপেক্ষা করেছে। ইনডেমিনিটি বিলের মাধ্যমে এই  বিচারে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল। কিন্তু সত্যের জয় অনিবার্য, বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার বাংলার মাটিতে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

"

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, "বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শৈশব থেকেই বঙ্গবন্ধু ছিলেন অকুতোভয়। আইয়ুবশাহী ও ইয়াহিয়ার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে শোষণহীন ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু ছিলেন অবিচল ও আপোষহীন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে অন্যায়ের কাছে তিনি কখনও মাথানত করেননি। তাইতো তিনি (বঙ্গবন্ধু) বলেছিলেন, 'ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়েও আমি বলবো- আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা'। তিনি বলেন, "কোনও প্রলোভন বা মোহই বঙ্গবন্ধুকে আচ্ছন্ন করতে পারেনি। জনতার মুক্তির প্রশ্নে সব সময়ই সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। ১৯৫৭ সালে মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেন। ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর নিঃস্বার্থ, নির্লোভ ও নির্মোহ সত্ত্বার প্রতিফলন দেখা যায়। আজও বাংলার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত থেকে প্রতিধ্বনিত হয় সেই বজ্রকন্ঠ 'আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি বাংলার মানুষের অধিকার চাই'। "

সভায় দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে স্পিকার বলেন, "নিম্ন  মধ্যম আয়ের দেশ হতে দ্রুতই মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। ২০৪১ সালে বাংলাদেশ স্থান করে নেবে উন্নত দেশের মানচিত্রে। প্রতিষ্ঠিত হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত শোষণহীন সোনার বাংলা, যা ছিল বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন ও আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য। " তিনি উন্নয়ন ও অগ্রগতির এ  ধারা অব্যাহত রাখতে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দেশপ্রেম ও অর্থনৈতিক মুক্তির দর্শন সবাইকে আত্মস্থ করার আহ্বান জানান।

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর হোসনে আরা শেফালীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, উপাধ্যাক্ষ প্রফেসর মুক্তি রানী সাহা প্রমুখ।  


মন্তব্য