kalerkantho


ফ্লাইট সংকটে চার হাজার হজযাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ১৩:০১



ফ্লাইট সংকটে চার হাজার হজযাত্রী

শেষ মুহূর্তে এসে হজ ফ্লাইট সংকটের কারণে চার হাজার হজযাত্রীর সৌদি আরব যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত বিমান শিডিউল করে বা রেগুলার ফ্লাইটে তাঁদের পাঠাতে হবে।

এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। কিছু এজেন্সি ভিসা করেও হজযাত্রী সৌদি না পাঠানোর কারণে ২৯টি হজ ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। এসব ফ্লাইটে সাড়ে ১১ হাজার হজযাত্রী যেতে পারতেন। কর্তৃপক্ষ হজ এজেন্সিগুলোকে দ্রুত হজযাত্রী পাঠানোর নির্দেশ দিলেও কেউ আমলে নেয়নি। এজেন্সিগুলো যাত্রী ধরে রাখার ফলেই এখন চার হাজার যাত্রী ভিসা নিয়েও বিমানে সিট পাচ্ছেন না।

গতকাল সোমবার আশকোনা হজ ক্যাম্পের পরিচালক সাইফুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে জানান, সৌদিয়া ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শিডিউল ফ্লাইটের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত চার হাজার হজযাত্রী রয়েছে। সমস্যা সমাধানে অতিরিক্ত ফ্লাইটের জন্য আলোচনা চলছে। তবে কতটা সফল হওয়া যাবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। হজ পরিচালক জানান, শেষ সাত দিনে ৪৩ হাজার হজযাত্রীকে সৌদি আরব পাঠানোর কথা থাকলেও দুটি এয়ারলাইনসের শিডিউল ফ্লাইটে সর্বমোট ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুল জলিল কালের কণ্ঠকে বলেন, আশা করছি এ চার হাজার যাত্রীও বসে থাকবেন না। আল্লাহর মেহমানদের আমরা নিশ্চয়ই আল্লাহর ঘরে পাঠাতে পারব। তবে এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না কত দিনে এই সমস্যার সমাধান হবে। এদিকে এবার এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ বাংলাদেশির হজে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ সময় পর্যন্ত ভিসার জন্য আবেদন করেছেন মোট এক লাখ ২৬ হাজার ২০৫ জন। বাকি ৯৯৩ জন আবেদন না করায় তাঁদের হজযাত্রাও অনিশ্চিত বলে জানা গেছে।

গতকাল হজ ক্যাম্পে গিয়ে আজগর মোল্লা (৬৩) নামে এক যাত্রীর সঙ্গে কথা হয়। শরীর-স্বাস্থ্য ভালো দেখালেও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তিনি। কেমন আছেন বলতেই জানালেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। ’ কোনো সমস্যা আছে কি না—জানতে চাইলে বললেন, ‘সমস্যা নেই। আল্লাহকে পাইতে হলে ত্যাগ-তিতিক্ষা পোহাতে হয়, তা-ই করছি। ’ এদিকে সৌদি আরবে আরো তিন বাংলাদেশি হাজি মারা গেছেন। তাঁরা হলেন চট্টগ্রামের মো. জাকের হোসেন (৫৯), টাঙ্গাইলের মো. আবদুর রাজ্জাক (৬২) ও লালমনিরহাটের মো. আবুল কাশেম ব্যাপারী (৬৫)। এ নিয়ে মোট বাংলাদেশি মৃত হজযাত্রীর সংখ্যা ১৯। জানা গেছে, স্থানীয় সময় রবিবার সকালে মদিনায় অসুস্থ হয়ে কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি মো. জাকের হোসেন মারা যান। তাঁর বাড়ি চট্টগ্রামের চকবাজার ইউনিয়নের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে, বাবার নাম সুলতান আহমেদ। পাসপোর্ট নম্বর বিজে ০৫৬১৬৯৭ ও পিলগ্রিম আইডি ০২৩৯০৪৫। এর আগে শনিবার সকালে মক্কায় হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান মো. আবদুর রাজ্জাক। তাঁর বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর বিএন ০৮১২৮৮১ ও পিলগ্রিম আইডি ০২৩৯০৪৫। শুক্রবার রাতে মদিনায় হৃদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান মো. আবুল কাশেম ব্যাপারী। বাড়ি লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রামে, বাবা নমধার আলী। তাঁর পাসপোর্ট নম্বর বিই ০৪১৪২৯৮ ও পিলগ্রিম আইডি ০৫৬২১২৭।

 


মন্তব্য