kalerkantho


‘জঙ্গিবাদ রোধে সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০১:২৫



‘জঙ্গিবাদ রোধে সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে’

ফাইল ছবি

জঙ্গিবাদ রোধে দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থাকে দৃঢ়ভাবে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারী, জঙ্গি অর্থায়ন বন্ধ, মাদ্রাসা বোর্ডের পাঠ্যবই নজরদারীসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

গতকাল সোমবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ‘জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ ও প্রতিকার’ কমিটির সপ্তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।  

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। সভায় পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, গোয়েন্দা সংস্থা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের প্রধান, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে বিকাল সোয়া ৪ টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।  

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ রোধে সামাজিক মূল্যবোধ যাতে প্রতিফলন হয় সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো যদি আমরা করতে পারি তাহলে জঙ্গিবাদের যে রেডিকাইলেজশন হচ্ছে, উদ্ধুদ্ধ করছে সেগুলো থেকে হয়তো আমরা নতুন প্রজন্মকে বিরত রাখতে পারবো।

জঙ্গিদের অর্থের উেসর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, জঙ্গিদের অর্থের উৎস অনুসন্ধান করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টিলিজেন্স ইউনিট, সিআইডি, এসবি এখানে কাজ করবে। আগামী মিটিংয়ে তারা পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট দেবে। যে তথ্য এসেছে সেগুলো যাচাই বাছাই করে দুই মাসের মধ্য রিপোর্ট দেবে তারা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশব্যাপী বিশেষ করে সামাজিক সাংস্কৃতিক ধর্মীয় শিক্ষাপত্রিষ্ঠান সমূহে কোন জঙ্গিবাদ কার্যক্রম হচ্ছে কি না তা নজরদারীর জন্য বলা হয়েছে। ইন্টারনেটে জঙ্গিবাদ প্রচারনা নিয়ন্ত্রনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো সার্বক্ষণিক নজারদারি করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জঙ্গিবাদ রোধে আইন শৃঙ্খাবানিহীকে সর্বদা সজাগ থাকতে বলা হয়েছ। গোয়েন্দা সংস্থাকে দৃঢ় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করতে বলা হয়েছে। জঙ্গি মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের উপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ’ 

টিআইবির রিপোর্টে বলা হয়েছে পাসাপোর্টের ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে এসবি ঘুষ নিয়ে থাকে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে যখন কোন কমপ্লেইন আসে তখন তদন্ত করি। সত্যতা আছে কি না দেখে নেই। তদন্ত করে অনেকগুলোর সত্যতার প্রমান পাই না। টিআইবির রিপোর্টটি দেখে মন্তব্য করবো। ’ তিনি আরো বলেন, ‘টিআইবি এসবির বিষয়ে যে রিপোর্ট দেয় সেগুলো ভেরিফাই করে অনেকাংশে সত্যতা খুজে পাই না। যদি সত্যতা খুজে পাই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ’

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের বই নজরদারী বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বলছি নজরদারীতে আনার জন্য। শিক্ষাবোর্ডের বই গুলো তদারকি করি। নজরদারীতে রাখি। মাদ্রাসা বোর্ডের পাঠ্যপুস্তকে কি লেখা হচ্ছে তা দেখার জন্য বলা হয়েছে। ’ 

আরেক প্রম্নের জবাবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের উপর নজরদারী রয়েছে। কানাডা গিয়ে যদি কেউ কানাডিয়ান হয়ে যান সেটা কানাডার বিষয়। ’

আরেক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি মাদকের কবল থেকে নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে না পারি তা হলে পথ হারিয়ে ফেলবো। সামাজিক আন্দোলন দরকার। জনগণকে সচেতন করছি। আমরা চাই সবাই যেন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলেন। তার ছেলে মেয়ে কোথায় যায় কি করে খোজ রাখার আহবান জানাই। ’


মন্তব্য