kalerkantho


পিডি হচ্ছেন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রকৌশলী

মোশতাক আহমদ   

২১ আগস্ট, ২০১৭ ১২:০৪



পিডি হচ্ছেন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রকৌশলী

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ৯০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের মেয়াদ গত জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। বিশেষ বিবেচনায় এর মেয়াদ বেড়েছে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত।

আর সেই প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবে যিনি নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অদক্ষতার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারাই। এতে প্রকল্পটির উদ্দেশ্যই ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্নীতির অভিযোগে প্রকৌশলী নুর আহাম্মদের বিরুদ্ধে খুলনা মহানগর হাকিম আদালতের একটি মামলা দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) তদন্ত করার জন্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই মামলায় দুদকের খুলনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন সাফাই প্রতিবেদন দিলে অভিযোগকারী খুলনা মহানগর আদালতে নারাজি পিটিশন দিয়ে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করেছেন। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে খুলনার আশাশুনি থানায় একটি হত্যা মামলাও রয়েছে। একাধিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের মামলা হাইকোর্টেও বিচারাধীন।

সূত্র জানায়, নুর আহাম্মদ বর্তমানে ফরিদপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে শরীয়তপুর ও সাতক্ষীরায় ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ওই পদে কর্মরত থাকাকালে অন্তত ১০ কোটি টাকার অনিয়ম করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ৩৭ জেলা পানি সরবরাহ প্রকল্পের পিডি করার জন্য সম্প্রতি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নুর আহাম্মদসহ আরো তিনজনের নাম প্রস্তাব করা হয়। ঢাকার নির্বাহী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম মিয়া ও নাটোরের নির্বাহী প্রকোশলী ওয়াজেদ আলীর নাম পাঠানো হলেও মন্ত্রণালয় কেবল নুর আহাম্মদকেই ডেকে সাক্ষাৎকার নেয়। এরপর তাঁর নামই পিডি হিসেবে প্রস্তাব করে মন্ত্রণালয়। অতিরিক্ত সচিব ইকরামুল হক স্বাক্ষরিত ওই নির্দেশনা গত ৯ আগস্ট অধিদপ্তরে পৌঁছানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের পৌরসভাগুলোতে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে দুর্নীতিবাজ কোনো কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। দুর্নীতিতে অভিযুক্ত একজন কর্মকর্তাকে কিভাবে ৯০০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পের পরিচালক নিয়োগ করা হচ্ছে—এ প্রশ্নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি তিনি খুঁজে দেখবেন। এমনটা হওয়ার নয়। যদি এমন অভিযোগ পাওয়া যায় তবে মন্ত্রণালয় নিশ্চয়ই তার সিদ্ধান্ত পাল্টাতে পারবে।

 


মন্তব্য