kalerkantho


'২০২১ সাল নাগাদ ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ আগস্ট, ২০১৭ ০১:০৯



'২০২১ সাল নাগাদ ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন'

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা করেই সরকার আমদানি ও রপ্তানির নীতি গ্রহণ করে।

তোফায়েল আহমেদ শনিবার রাজধানীতে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল এন্ড স্টাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ইন রিজিওনাল ট্রেড এন্ড কানেকটিভিটি' এ পলিটিকো-ইকোনমিক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ সব কথা বলেন। সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টার্ডিজ (সিজিএস) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটি) দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণের জন্য পেপার লেস বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি চলছে। শ্রীলংকার সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট(এফটিএ) স্বাক্ষর করা হচ্ছে। ডব্লিউটিও’র সিদ্ধান্ত অনুযায়ি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য এগিয়ে যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যের ভলিউম বৃদ্ধির সাথে সাথে চট্রগ্রাম ও মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন এবং পানগাঁও আইসিডি ও পায়রা সমুদ্র বন্দর চালু করা হয়েছে, রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধির সাথে সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিকল্প নেই উল্লেখ করেন।  

তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ, ভূটান, ইন্ডিয়া নেপাল (বিবিআইএন) এবং বাংলাদেশ, চীন, ইন্ডিয়া, মায়ানমার (বিসিআইএম) এর কানেকটিভিটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মোট বিশ্ব বাণিজ্যের মাত্র শতকরা ৫ ভাগের কম বাণিজ্য হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়।

বাংলাদেশের সাথে ভারত ও চীনের বাণিজ্য ঘাটতিও রয়েছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সার্ভিস সেক্টর বাদে বাংলাদেশ গত বছর প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। এ বছর ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্ভিস সেক্টর মিলে মোট রপ্তানি ধরা হয়েছে ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অন্য দেশকে কোন ধরনের বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে না। দেশের শিল্প সুরক্ষা দিয়ে বাণিজ্য করছে, এ নীতির ফলে দেশ ইতোমধ্যে সিমেন্ট, রড, পেপার, টিনসহ অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। কাঁচাপাট রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ভারত বাংরাদেশের পাটজান পণ্যের উপর কাউন্টার ভেলিং ডিউটি আরোপ করেছে, কিন্তু কাঁচাপাট আমদানির উপর কোন ডিউটি আরোপ করেনি। বাংলাদেশ সব সময় নিজেদের শিল্পের সুরক্ষা দিচ্ছে। আগামী ২৯ আগষ্ট বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টার্ডিজের (সিজিএস) প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবীদ এম শহিদুল ইসলাম। আন্যান্যের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, এফবিসিসিআই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট মীর নাসির হোসেন, এনবিআর’র সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজের সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহীম, অ্যাম্বাসেডর আশফাকুর রহমান ও বিআইআইএসএস’র প্রেসিডেন্ট অ্যাম্বাসেডর মুন্সী ফয়েজ আহমেদ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।


মন্তব্য