kalerkantho


প্রকাশ্যে ঘুরছে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী

২২ বছরেও বিচার পায়নি বীর প্রতীক আব্দুল আলীমের পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক    

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ১৬:০৭



২২ বছরেও বিচার পায়নি বীর প্রতীক আব্দুল আলীমের পরিবার

বিচার না পেয়ে কুষ্টিয়া ডিসি অফিস চত্বরে প্রকাশ্যে বিষপানে আত্মহত্যা করেছিলেন বীর প্রতীক আব্দুল আলীম। এরপর তার আত্মহত্যার জন্য দায়ী প্রায় দুই ডজন মামলার আসামি শামসুল আলম স্বপন গ্রেপ্তার হলেও দীর্ঘ ২২ বছরে বিচার হয়নি।

এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই আসামি।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে উত্থাপিত এক লিখিত আবেদনে এ অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। কুষ্টিয়ার মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে মো. আব্দুল জলিল স্বাক্ষরিত ওই আবেদনে সেই সময় বিএনপি সরকারের প্রভাবের কারণে মামলার বিচার হয়নি উল্লেখ করে ন্যায় বিচারের স্বার্থে সংসদীয় কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সংসদীয় কমিটির সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক সাংবাদিকদের বলেন, "ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। বীর প্রতীক আব্দুল আলীমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে। "

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে বিএনপি সরকারের আমলে কুষ্টিয়ার আব্দালপুর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলীম বীর প্রতীকের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আব্দুল আলীম চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির ক্যাডার শামসুল আলম স্বপন ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত শুরু করে। এ অবস্থায় বীর প্রতীক আব্দুল আলীম ১৯৯৫ সালের ১৪ নভেম্বর কুষ্টিয়া সদর থানায় শামসুল আলম স্বপনের বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি করেন।

যার নম্বর- ৪৯৬। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে 'মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আলীম তার নিজ মেয়েকে ধর্ষণ করেছে'- এমন জঘন্য অপবাদ দিয়ে নিজ হাতে আবেদন আকারে লিখে তা প্রশাসনের কাছে জমা দেয় শামসুল আলম স্বপন। পরে তা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

আবেদনে বলা হয়েছে, ওই ঘটনায় সামাজিকভাবে চরম হেয় হয়ে আব্দুল আলীম ও তার নিজ মেয়ে চরমভাবে মুষড়ে পড়েন। প্রশাসনের কাছে বিচার চেয়েও তারা বিচার পাননি। প্রতারক-চাঁদাবাজ শামসুল আলম স্বপন জিয়াউর রহমান সরকারের করা গ্রাম সরকারের প্রধান ছিলেন বিধায় তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ সময় অপবাদের জ্বালা সইতে না পেরে ১৯৯৫ সালের ২ ডিসেম্বর আব্দুল আলীম কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষের সামনে প্রকাশ্যে বিষপানে আত্মহত্যা করেন। মৃত্যুর জন্য তিনি শামসুল আলম স্বপনকে দায়ী করে নোট লিখে যান। ওই ঘটনা সারা দেশে ব্যাপকভাবে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কুষ্টিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পুলিশ আসামি শামসুল আলম স্বপনকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা হয়। কিন্ত সরকারি দলের লোক হওয়ায় সে অল্পদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যায়। জেল থেকে বেরিয়ে সে আব্দুল আলীমের স্ত্রী জরিনা বেগম ও তার সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে প্রাণের ভয় দেখিয়ে আপোষনামায় স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বীর প্রতীক আব্দুল আলীমকে আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী শামসুল আলম স্বপন সব সময় মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে অপমান ও অপদস্ত করে আসছে। সম্প্রতি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মিলন উল্লাহর বিরুদ্ধেও ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে নানা অপবাদ ছড়ায়। এ ঘটনায় প্রজন্ম-৭১'সহ বিভিন্ন মহল তাকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ করেছে। কুষ্টিয়া মডেল থানায় এ সংক্রান্ত মামলা নম্বর-১৩, তারিখ : ১০/০৭/২০১৭।

এর আগে আল মামুন সাগর নামের এক ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করে স্বপন। ওই ঘটনায় সম্প্রতি স্বপনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে কুষ্টিয়া সদর থানা পুলিশ। ওই আসামি জামায়াত-শিবির, যুদ্ধাপরাধীসহ জঙ্গিবাদে মদদ দিচ্ছে। বিএনপির জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনেও সে বিশেষ ভূমিকা রাখে বলে লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে।


মন্তব্য