kalerkantho


চীনের ডুবোজাহাজে ডোবেনি ঢাকা দিল্লি সম্পর্ক

মেহেদী হাসান    

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ১০:১৭



চীনের ডুবোজাহাজে ডোবেনি ঢাকা দিল্লি সম্পর্ক

চীনের কাছ থেকে সাবমেরিন (ডুবোজাহাজ) কেনার ফলে বাংলাদেশের ওপর ভারত ক্ষুব্ধ হয়েছে- এমন ভাবনা রয়েছে বিভিন্ন মহলে। তবে ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলেছে, ওই ডুবোজাহাজের ফলে বঙ্গোপসাগরে কৌশলগত দিক দিয়ে নতুন একটি মাত্রা এসেছে এটি সত্যি।

কিন্তু তা কোনোভাবেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে চিড় ধরায়নি বা ভারতকে বাংলাদেশের ব্যাপারে ক্ষুব্ধ করেনি।

ভারতীয় একজন কূটনীতিক সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে বলেন, 'বাংলাদেশের ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গড়ার লক্ষ্য বিষয়ে আমরা অবগত। আপনারা (বাংলাদেশ) একটি রাষ্ট্র, সরকার ও নৌবাহিনীর অবস্থান থেকে আপনাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের এখানে কিছুই বলার নেই। তবে নিঃসন্দেহে এটি বঙ্গোপসাগরে নতুন মাত্রা এনেছে। '

ওই কূটনীতিক বলেন, বাংলাদেশ অনেকাংশেই চীনা সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। সামরিক সরকারগুলোর আমলে এটি শুরু হয়েছে। পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক সরকারগুলোর সময়ও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। এটি গোপন কিছু নয়।

ভারতীয় ওই কূটনীতিক বরং গত এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নয়াদিল্লি সফরের সময়ও দুই দেশের মধ্যে সামরিক বিষয়ে সামরিক সহযোগিতার কাঠামো এবং সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ঋণ বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ভারতের সঙ্গে সামরিক খাতে সহযোগিতা থাকলেও সুনির্দিষ্টভাবে কাঠামো আকারে ছিল না। সেটি এ বছর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে রেকর্ডসংখ্যক চুক্তি হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন স্ট্র্যাটেজিকের মাত্রাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ সম্পর্ককে উভয় পক্ষই যেকোনো সময়ের তুলনায় সেরা বলে অভিহিত করে থাকে।

চীনা ডুবোজাহাজের প্রভাব যেমন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে পড়েনি, তেমনি দোকলাম ইস্যুতে ভারত ও চীনের মধ্যে বিরোধের প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে না বলেই মনে করেন ভারতীয় ওই কূটনীতিক। তিনি বলেন, ‘চীন ভারতেরও উল্লেখযোগ্য অংশীদার। চীনের সঙ্গে আমাদের (ভারতের) বাণিজ্যের পরিমাণ সাত হাজার কোটি ডলারেরও বেশি এবং এটি আরো বাড়ছে। দুই দেশের (ভারত ও চীন) মধ্যে সাংস্কৃতিক এবং মানুষে মানুষে সম্পর্ক রয়েছে। চীনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে উত্তেজনার মধ্যে এমন কোনো ইস্যু নেই যা বাংলাদেশের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হিমালয় অঞ্চলে বিরোধপূর্ণ প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকা নিয়ে উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সামরিক বাহিনী সম্প্রতি তার পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে প্রস্তুতি বাড়িয়েছে। গত জুনে দোকলাম এলাকায় চীন সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করলে এ সংকট শুরু হয়। চীন ও ভুটান উভয়েই ওই এলাকা নিজের বলে দাবি করে থাকে। ভারতীয় কূটনীতিকরা বলছেন, দোকলামে চীনের সড়ক নির্মাণ চেষ্টার প্রথম প্রতিবাদ করেছিল ভুটান এবং তা চীনকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'নোট ভারবাল' (কূটনৈতিক বার্তা) পাঠিয়ে।

ভুটানের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্ক রাখা ভারত পরবর্তী সময়ে নির্মাণকাজ ঠেকাতে সেনা পাঠায়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চীন একতরফাভাবে ভারতীয় সেনা প্রত্যাহারের দাবি তোলে। ভারতীয় কূটনীতিকরা জানান, সেখানে এখন কোনো সংঘাত নেই। উভয় পক্ষই প্রটোকল মেনে চলছে। কিছু গণমাধ্যম আশির দশকের ভিডিও ফুটেজ দেখাচ্ছে।


মন্তব্য