kalerkantho


জাগৃতি প্রকাশক দীপন হত্যা: দুই বছরেও প্রতিবেদন নেই

আদালত প্রতিবেদক    

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ১৮:৪৩



জাগৃতি প্রকাশক দীপন হত্যা: দুই বছরেও প্রতিবেদন নেই

শাহবাগের আবদুল আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশনা কার্যালয়ে ঢুকে জাগৃতি'র প্রকাশক দীপনকে কুপিয়ে হত্যায় মামলা হওয়ার প্রায় দুই বছরেও কোনও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা। তদন্তের ফাঁদে মুখ থুবড়ে পড়েছে মামলার কার্যক্রম।

তারিখ আসে, তারিখ যায়। নতুন আশায় তদন্ত সংস্থা চায় সময়। এরই ফাঁকে পেরিয়ে যাচ্ছে বছর।

আজ বুধবার এ মামলায় যথারীতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য তারিখ ছিল। সংস্থার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম নবী আগামি ২১ সেপ্টেম্বর ফের দিন ধার্য করেন।

রাজধানীর জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মার্কেটে প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া নৃশংস এ হত্যার রহস্য ভেদ করে প্রকৃত অপরাধীদের এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিলম্বের বিষয়ে কোনও সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা না থাকলে বিচারে এর সুবিধা ভোগ করবে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা। বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদবে। নিহতের পরিবার বয়ে বেড়াচ্ছে এর গ্লানি ও যন্ত্রণা।

নথি সূত্রে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। অনুমানের ভিত্তিতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করে রহস্য উদঘাটন করতে তদন্ত সংস্থা রিমান্ডে নিয়েছে। পরে আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া আনসার উল্লাহ বাংলাটিমের সদস্য খায়রুল পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে গত বছরের ২৯ নভেম্বর, আবদুস সবুর একই বছরের গত ২ অক্টোবর এবং গত ২৯ আগস্ট মঈনুল হাসান শামীম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আসামিরা এখন কারাগারে রয়েছেন। এরপর আর কোনও তথ্য নাই। কোনও আসামিও গ্রেপ্তার নেই।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ থেকে পরবর্তী তিন বছরে লেখক, ব্লগার, প্রকাশক, ভিন্নমতাবলম্বীসহ অন্তত ১০ জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গত বছরের মে মাসে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সন্দেহভাজন ছয়জনের ছবি প্রকাশ করা হয়। ডিএমপি থেকে ওই জঙ্গীদের ধরিয়ে দিতে মোটা অংকের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। যাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে স্বীকারোক্তি দেওয়া মইনুল হাসান শামীমের নামও ছিল। কিন্তু আট মাস পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যার রহস্য ভেদ করতে পারেনি তদন্ত সংস্থা।

২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনার কার্যালয়ে ঢুকে দীপনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। ওই ঘটনায় দীপনের স্ত্রী রাজিয়া রহমান রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মন্তব্য