kalerkantho


আমরা ওয়েজবোর্ডের পক্ষেই আছি : তথ্যমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ আগস্ট, ২০১৭ ১৫:০৮



আমরা ওয়েজবোর্ডের পক্ষেই আছি : তথ্যমন্ত্রী

ফাইল ছবি

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, 'তথ্য মন্ত্রণালয় ওয়েজবোর্ডের বিরুদ্ধে এ কথাটা সঠিক নয়। আমরা পক্ষেই আছি। ’ তিনি জানান, সাংবাদিকদের নবম ওয়েজবোর্ড গঠনে মালিকরা প্রতিনিধি দিচ্ছেন না। মালিক প্রতিনিধি ছাড়া একতরফা ওয়েজবোর্ড গঠন কঠিন সিদ্ধান্ত হবে।  

আজ রবিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সামনে ডিজিটাল আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২তম শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

হাসানুল হক ইনু বলেন, 'মজুরি বোর্ড গঠনের কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন করেছি। মালিকদের প্রতিনিধি আমরা পাইনি, আমরা মালিকদের তাগাদা দিচ্ছি প্রতিনিধি দেওয়ার জন্য। এ ব্যাপারে দেন-দরবার চলছে এবং অনুরাধ করছি আপনারা অবিলম্বে প্রতিনিধি দেবেন। আমরা ওয়েজবোর্ড গঠন করব। '

তিনি বলেন, 'মালিকরা যদি প্রতিনিধি না দেন তবে এক তরফা মজুরি বোর্ড ঘোষণা করব কি না, এটা একটা কঠিন সিদ্ধান্ত।

আমি সংবাদিক ভাই-বোনদের মঙ্গল চাই, তারা যাতে ওয়েজবোর্ডের সুযোগটা পায়.... সে জন্য এই প্রশ্নের সম্মুখীন যদি হই তাহলে আমরা মনে করি বিএফইউজে, ডিইউজে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এবং সরকারের সঙ্গে, সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। '

তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'নবম ওয়েজবোর্ড গঠনে তথ্য মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। '

ওয়েজবোর্ড ৫ বছর পর পর দেওয়ার বিধান আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, 'রাজনৈতিক উত্থান-পতনের কারণে ৫ বছর পর পর ওয়েজবোর্ড দেওয়া অতীতে সম্ভব হয়নি। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বহু খাটাখাটনি করে ওয়েজবোর্ড দিতে সক্ষম হয়। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৫ বছর পূর্তি হবে। ৫ বছর পর যাতে গণমাধ্যমের কর্মীরা, সাংবাদিক বন্ধুরা নবম ওয়েজবোর্ডর সুযোগ পায় সে জন্য তারা দাবি উত্থাপন করেছিলেন। এই দাবির সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। '

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরের আগেই ওয়েজবোর্ড গঠন করা হবে। গত ওয়েজবোর্ডের ৫ বছর পর থেকেই নতুন ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।

সাংবাদিকদের মধ্যে থেকে দাবি ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সরকার ওয়েজবোর্ড গঠনের কাজ শুরু করেছে জানিয়ে হাসানুল হক ইনু বলেন, 'সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে, কর্মচারী বন্ধুদের সঙ্গে আমরা একাধিকবার বসেছি। ওয়েজবোর্ড গঠনের ক্ষেত্রে কোনো লুকোছাপার অবস্থান নেই। সাংবাদিক ও কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মত এক, আমরা একে-অপরের প্রতিপক্ষ নই, শত্রুও নই। '

ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ওয়েজবোর্ডের অধীনে নন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা এ ব্যাপারে তাগিদ দিয়েছি, কীভাবে ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার বন্ধুদের আওতায় আনা যায়, সে ব্যাপারে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করতে।

এ ছাড়াও প্রদর্শনীর বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, 'এতে আমরা বঙ্গবন্ধুর কর্মকাণ্ডের কিছু অংশ তুলে ধরছি। দেশব্যাপী বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়, গণতান্ত্রিক সংগ্রামের কথা আস্তে আস্তে মানুষের কাছে প্রকাশ পাচ্ছে, মানুষ বুঝতে পারছে। ইতিহাস যতই ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হোক ইতিহাস কখনো ধামাচাপা থাকে না। বঙ্গবন্ধু স্বমহিমায় বাংলাদেশে আবার উদ্ভাসিত। '

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও বেতারের মহাপরিচালকের মো. নাসির উদ্দিন।


মন্তব্য