kalerkantho


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলন

সীতাকুণ্ডে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ জুলাই, ২০১৭ ২২:৪৫



সীতাকুণ্ডে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু

প্রথমে অজ্ঞাত রোগে মৃত্যুর কথা বলা হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়েছে হামের সংক্রমণে সীতাকুণ্ডের ৯ শিশুর মৃত্যু ও ৯০ জন আক্রান্ত হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতা ওই মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করেছে।

পাশাপাশি কুসংস্কারের কারণে সময়মতো আধুনিক চিকিত্সা থেকেও বঞ্চিত হয়েছে হামে আক্রান্ত এলাকার ৮৫টি পরিবারের মোট ৩৮৮ জন মানুষ। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এ সময় ডা. আবুল কালাম আজাদ ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, সরকারের রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের গবেষকদলের পর্যবেক্ষণ ও আক্রান্তদের রক্ত ও গলার নিঃসরণ নমুনা ঢাকায় ল্যাবে নিয়ে এসে পরীক্ষার মাধ্যমে হামের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এ সময় জানানো হয়, ঘটনাস্থল ত্রিপুরাপাড়ার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বিশেষ কুসংস্কারে বিশ্বাস করে। ফলে একাধিক শিশুর মৃত্যুর পরও তারা আধুনিক কোনো চিকিত্সাকেন্দ্রে না গিয়ে বা খবর না দিয়ে নিজেরাই কুসংস্কারের ভিত্তিতে মশাল জ্বালিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করে। কিন্তু এর পরও একের পর এক শিশু মারা গেলে প্রতিবেশী এলাকার বাঙালিদের কাছ থেকে খবর পেয়ে সীতাকুণ্ডের স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে আক্রান্তদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। এর পরই ঘটনাটি জানাজানি হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, একটি এলাকায় হামের এমন ঘটনা ঘটলেও দেশে এখন হামের কোনো প্রাদুর্ভাব নেই। সেই সঙ্গে হামের টিকার কার্যক্রমও সঠিকভাবেই চলছে।

সীতাকুণ্ডের ওই ৮৫টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে টিকা পৌঁছাতে না পারার জন্য মহাপরিচালক দুঃখ প্রকাশ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা, আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য