kalerkantho


'সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি গণতান্ত্রিক সরকার করে না'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ মে, ২০১৭ ১৬:১০



'সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি গণতান্ত্রিক সরকার করে না'

ফাইল ফটো

বিদেশ ভ্রমণে সাংবাদিকদের ওপর নজরদারির নির্দেশনার সমালোচনায় বিএনপি বলেছে, এটা ‘একদলীয় সরকারের বাকশালী আচরণের’ বর্হিপ্রকাশ। আজ শুক্রবার স্বাধীনতা ফোরামের মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ মন্তব্য করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি আরো বলেন, “সাংবাদিক ও গণমাধ্যম গণতন্ত্রের একটি মূল ভিত্তি। তাদের স্বাধীনতাকে আজকে বাংলাদেশে সঙ্কুচিত করা হয়েছে। আজকে সত্য উচ্চারণ বন্ধ করেছে, মিডিয়ার ওপর স্বঘোষিত নিয়ন্ত্রণ জারি করেছে। এখন তাদের চলাচলের ওপরে নজদারি করছে। এটা কোনো গণতান্ত্রিক সরকার করে না। ”

বিদেশে গিয়ে বাংলাদেশের সাংবাদিকরা ‘দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো তৎপরতায় লিপ্ত আছে কি না’ সে বিষয়ে নজরদারির নির্দেশ দিয়ে বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে একটি সার্কুলার পাঠানোর খবর বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে আসে। এরপর এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ওইদিনই  সাংবাদিকদের বলেন, ওই সার্কুলারে কী লেখা হয়েছে তা তিনি দেখবেন।  

ওই সার্কুলারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “নিষ্ঠুর, ঘাতক, বাকশাল, একদলীয় সরকারের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি আমরা। ”

রিজভীর দাবি, সরকার বিএনপিকে ‘ভয় পায়’ বলেই তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে।

তারা আতঙ্কে আছে। কখন কোন ফাঁক দিয়ে বিএনপি বেরিয়ে পড়ে, বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিশাল ঢল নামে- এই আতঙ্ক। এতো হত্যা করছেন, এতো গুম করছেন, এতো কারাগারে নিচ্ছেন, এরপরও আতঙ্ক কাটছে না।

অন্যায় বা অবৈধ কর্মকাণ্ড ‘কখনো চাপা দেওয়া যায় না’ বলেও সরকারকে সতর্ক করেন রিজভী। তিনি বলেন, আজকে দেশে দুঃশাসনের মধ্যেও কেউ কেউ প্রতিবাদ করছেন, স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে থেকে কেউ কেউ প্রতিবাদ করছেন। যেমন প্রধান বিচারপতি করছেন। তিনি বলছেন, শাসন বিভাগ বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। প্রধান বিচারপতি যখন এই হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন তাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়।

এ সময় বরকত উল্লাহ বুলু, খায়রুল কবির খোকনসহ বিএনপির কারাবন্দি নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব।

সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শিরিন সুলতানা, এবিএম মোশাররফ হোসেন, আবদুস সালাম আজাদ, ফরিদা ইয়াসমীন।


মন্তব্য