kalerkantho


ইয়াবা সেবন না করেও ইয়াবা ডিলার মেধাবীরা!

এস এম আজাদ   

১৯ মার্চ, ২০১৭ ১৩:১০



ইয়াবা সেবন না করেও ইয়াবা ডিলার মেধাবীরা!

মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবী সন্তান নাজমুস সাকিব (২৫)। রাজধানীর বারিধারার ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (আইইউবি) থেকে বিবিএ শেষ করেছেন ২০১৪ সালে। এরপর চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) সম্পন্ন করতে ভর্তি হন একটি প্রতিষ্ঠানে। তবে সেই উচ্চতর ডিগ্রি আর নেওয়া হয়নি তাঁর। এর আগেই রাতারাতি ধনী হওয়ার কৌশল হিসেবে শুরু করেন ইয়াবার কারবার।

আরেকজন ফাহাদ বিন আমিন ওরফে রুবেল (৩০) ছিলেন ঢাকা কলেজের ছাত্র। গণিত বিষয়ে অনার্স শেষ করেন তিনি। তবে তিনিও একই কারবারে জড়িয়ে আর মাস্টার্স করতে পারেননি।

ধনাঢ্য জীবনযাপনের বদলে তাঁদের দুজনের স্থান হয়েছে কারাগার। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে তাঁরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের কাছ থেকে আড়াই হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

ডিএনসির ঢাকা মহানগর উপ-অঞ্চলের সহকারী পরিচালক (উত্তর) খুরশীদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃত দুই ইয়াবা কারবারি যুবক নিজেরা ইয়াবা সেবন করেন না। তাঁরা উচ্চ শিক্ষা নেওয়ার সময় আয়ের পথ খুঁজছিলেন। এ সময় কিছু পরিচিত লোকের মাধ্যমে তাঁরা রাতারাতি ধনী হতে ইয়াবার কারবার শুরু করেন। এতে তাঁদের লেখাপড়াও শেষ হয়ে যায়। '

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, মধ্যবিত্ত পরিবারের সুদর্শন ও শিক্ষিত যুবকদের ইয়াবা কারবারে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজন কলাবাগান-ধানমণ্ডি এলাকার ইয়াবা ডিলার। তাঁদের মাধ্যমে ওই এলাকার বেশ কিছু ইয়াবা কারবারির ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে।  

ডিএনসির ধানমণ্ডি সার্কেলের পরিদর্শক ও মামলার বাদী সুমনুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার প্রথমে গ্রিন রোডের রাস্তা থেকে রুবেলকে এক হাজার ৩০০ ইয়াবা বড়িসহ আটক করা হয়। এরপর গ্রিন রোডের ৪৯ নম্বর বাড়িতে তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যে কলাবাগানের লেকসার্কাস এলাকা থেকে সাকিবকে এক হাজার ২০০ ইয়াবা বড়িসহ আটক করা হয়। পরে লেকসার্কাসের ৯২/১ নম্বর বাড়িতে তাঁর বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। তাঁরা ইয়াবা খুচরা ও পাইকারি বিক্রি করতেন। মামলার বাদী জানান, রুবেলের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। আর সাকিবের বাড়ি কুমিল্লায়।

পরিদর্শক সুমনুর বলেন, 'মূলত এই যুবকরা মেধাবী, শিক্ষিত ও ভালো পরিবারের। তারা সহজে টাকা আয় করার পথ খুঁজছিল। তখন তাদের কিছু পরিচিত লোক ইয়াবা কারবারের পরামর্শ দেয়। এভাবে শিক্ষিত যুবকদের সর্বনাশা ইয়াবায় জড়িয়ে ভবিষ্যৎ নষ্ট করার আরো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। '

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একই দিন বৃহস্পতিবার বিমানবন্দর এলাকা থেকে ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে মার্জিনা বেগম (৩০), ফাতেমা বেগম (৫০) ও আনু বেগমকে (৪৫)। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর থেকে ফরিদ (৩৮) নামে আরেকজনকে ৪০টি ইয়াবা বড়িসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃতরা মালিবাগের একজনের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বলে জানিয়েছেন। আরো কিছু সহযোগীর নামও পাওয়া গেছে। তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে আরো তথ্য পাওয়া যাবে।


মন্তব্য