kalerkantho


আইএস’র সেই বাংলাদেশি যোদ্ধার পরিচয় নিশ্চিত করেছে তার পরিবার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ মার্চ, ২০১৭ ১০:৪৯



আইএস’র সেই বাংলাদেশি যোদ্ধার পরিচয় নিশ্চিত করেছে তার পরিবার

আমেরিকাভিত্তিক ওয়েবসাইট সাইট ইনটিলিজেন্স তাদের খবরে যে আত্মঘাতী বাংলাদেশি যোদ্ধার ছবি প্রকাশ করেছে তার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন তার বোন জান্নাতুল মাওয়া। ইসলামিক স্টেটের বাংলাদেশি যোদ্ধা হিসেবে প্রকাশিত ওই আত্মঘাতী বোমারুর নাম নিয়াজ মোর্শেদ রাজা।


নিয়াজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার খন্দকিয়া এলাকার এ কে এম কামালউদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে নিয়াজ সবার ছোট।
তার বোন জান্নাতুল মাওয়া বলেন, নিয়াজ চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুল (সিজিএস) থেকে ‘এ লেভেল’ পাস করে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সেখানে ব্যবসায় প্রশাসন ও তথ্যপ্রযুক্তির ওপর পড়াশোনা করে সুইডেনে যান। গত দুই বছর তার সঙ্গে পরিবারের কোনো যোগাযোগ নেই। তবে নিয়াজ যে জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, সে খবর তারা শুনেছেন। এ কারণে অসুস্থ মা খুব কান্নাকাটিও করতেন।
নিয়াজের বোন বলেন, ২০১১ সালে নিয়াজ বিয়ে করেন। তিনি দুই সন্তানের জনক। নিয়াজের স্ত্রী ও সন্তানরা এখন ঢাকায়। নিয়াজের কারণে তার স্ত্রী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। পরিবারেও হতাশা।
গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর র‌্যাব নিখোঁজ ব্যক্তিদের যে তালিকা প্রকাশ করে, সেখানেও নিয়াজের নাম ছিল। হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বেলাল উদ্দীন জাহাঙ্গীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, নিয়াজ মোর্শেদের বাবা একটি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন।
জান্নাতুল মাওয়ার ভাষ্য, নিয়াজের পার্টি খুব পছন্দ ছিল। অনেক মজা-টজা করতো। হঠাত করেই এক সময় বদলে যান নিয়াজ। পার্টি-প্রিয় ছেলে থেকে হয়ে ওঠেন ধর্মপ্রিয়। এবং বাবা-মায়ের খুব যত্ন নিতো। ওর বদলে যাওয়া দেখে আমাদের একবারও খারাপ কিছু মনে হয়নি।
২০১৫ সালের মার্চে এক শুক্রবার নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে সে বের হয়ে যায়। এরপর আর ফিরে আসেনি। বেশ কিছুদিন পর নিয়াজ খবর পাঠায় যে, সে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছে- সে ভালো আছে এবং সুস্থ আছে। মাঝেমধ্যে ফোন করে পরিবারের খোঁজ নিতো।
একদিন হঠাত একটা ফোন কলে জান্নাতুল মাওয়া জানতে পারেন কোনো একটা মিশনে গিয়েছিল, যুদ্ধের একটা ট্যাঙ্কার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মারা গেছে তার ভাই। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেলেও কাউকে সেটা জানাতে পারেনি তিন বোন। পরিবারের কেউ যখন জিজ্ঞেস করতো তখন বলতাম ও ব্যবসার কাজে অস্ট্রেলিয়া চলে গেছে।


মন্তব্য