kalerkantho


অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন

জঙ্গি মায়ের বিস্ফোরণে প্রাণ যায় শিশুটির

রাবার ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নেয় জঙ্গিরা

এস এম আজাদ   

১৬ মার্চ, ২০১৭ ২৩:২৮



জঙ্গি মায়ের বিস্ফোরণে প্রাণ যায় শিশুটির

ফাইল ফটো

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের চৌধুরীপাড়ার ছায়নীড়ে অপারেশন অ্যাসল্ট সিক্সটিন শেষে নিহত চার জঙ্গি ও এক শিশুর ব্যাপারে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার বিকেলে দোতলা বাড়িটির ছাদে ওঠার সিঁড়ির কোনায় বিচ্ছিন্ন আত্মঘাতী নারী জঙ্গির পাশে একটি শিশুর দেহাবশেষ পায় তারা।

প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে- পাশেই পড়ে থাকা নারী জঙ্গির সন্তান ওই নিহত শিশু। মা ওই শিশুটিকে নিয়ে আত্মঘাতি হয়। এদিকে বাড়ির মালিক ও তাঁর ছেলেকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ তথ্য পেয়েছে- জঙ্গিরা রাবার ব্যবসায়ী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়েছে। তারা নিজেদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ছয় হাজার টাকায় ওই বাসাটি ভাড়া নেয়। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বাড়িটির মালিক রেহেনা বেগম ও তার ছেলে নাছিরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ।  
রাতেই অভিযান শেষে ঢাকায় ফিরে আসেন পুলিশের কাউন্টার টোরোরিজম এ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা। এই ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের প্রধান ছানোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিকেলে চূড়ান্তভাবে লাশ সরানোর কাজ করার সময় আত্মঘাতি নারী জঙ্গির শরীরের পাশে একটি শিশুর লাশও পাওয়া যায়। হয়ত তারই মেয়ে। তারা শক্তিশালী বোমার এমন বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে যে কয়েকজনের দেহ টুকরা হয়ে গেছে।
তিনি জানান, অভিযানের পর ১০টি অবিস্ফোরিত গ্রেনেড, বোমা বানানোর সরঞ্জাম, ১৮০ লিটার রাসায়নিক উপাদান পায় পুলিশ। পরে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়। সূত্র জানায়, লাশ খন্ডিত হওয়ার কারণে প্রথমে ধারনা করা হয়- নিহত শিশুর বয়স চার-পাঁচ মাস হবে। পরে শরীরের অংশ দেখে পুলিশের ধারনা শিশুটির বয়স দুই বছরের উপরে। সিঁড়ির পাশে মায়ের লাশের কাছে আবর্জনার সঙ্গে তার খণ্ডিত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন পুলিশ কর্মকর্তারা।  
চট্টগ্রাম পুলিশের সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িটির মালিক রেহেনা বেগম ও তার ছেলে নাছিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সীতাকুণ্ড থানায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের ভাড়াটিয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।  রেহেনা বেগম পুলিশকে জানিয়েছেন, ছয় হাজার টাকা ভাড়ায় তিনি বাসাটি ভাড়া দিয়েছিলেন। সেখানে ভাড়াটিয়ারা নিজেদেরে রাবার ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে দুটি পরিবার নিয়ে থাকার কথা জানিয়েছিল। ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়েছিলেন, তবে তা ঝাপসা ছিল। নিজেদের দুলাভাই-শ্যালক সম্পর্কের আত্মীয় বলেও পরিচয় দিয়েছিলেন ভাড়াটিয়ারা।


মন্তব্য